শিরোনাম

শাওয়াল মাসের ফজিলত 

Spread the love
ডা.মাওলানা মাহতাব হোসাইন মাজেদ
শাওয়াল হলো আরবি চান্দ্র বছরের দশম মাস। এটি হজেরতিন মাসের (শাওয়াল, জিলকদ, জিলহজ) প্রথম মাস; এইমাসের প্রথম তারিখে ঈদুল ফিতর বা রোজার ঈদ। পয়লাশাওয়ালে সদকাতুল ফিতর বা ফিতরা আদায় করা এবংঈদের নামাজ পড়া ওয়াজিব। এই মাসের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতারয়েছে হজের, এর সঙ্গে সম্পৃক্ততা রয়েছে ঈদের, এর সঙ্গেসম্পর্ক রয়েছে রোজা ও রমজানের এবং এর সঙ্গে সম্পর্করয়েছে সদকা ও জাকাতের। তাই এই মাস আমল ওইবাদতের জন্য অত্যন্ত উর্বর ও উপযোগী।
শাওয়ালের অর্থ ও তাৎপর্য
‘শাওয়াল’ আরবি শব্দ। এর অর্থ হলো উঁচু করা, উন্নতকরণ, উন্নত ভূমি, পূর্ণতা, ফলবতী, পাল্লা ভারী হওয়া, গৌরব করা, বিজয়ী হওয়া, প্রার্থনায় হস্ত উত্তোলন করা বা ভিক্ষায় হস্তপ্রসারিত করা, পাত্রে অবশিষ্ট সামান্য পানি, ফুরফুরে ভাব, দায়ভারমুক্ত ব্যক্তি, ক্রোধ প্রশমন ও নীরবতা পালন, সিজনকরা কাঠ। এসব অর্থের প্রতিটির সঙ্গেই শাওয়ালের সুগভীরসম্পর্ক রয়েছে। এই মাসের আমলের দ্বারা উন্নতি লাভ হয়, পূর্ণতা ফল লাভ হয়, নেকির পাল্লা ভারী হয়, গৌরব অর্জনহয় ও সাফল্য আসে, ফলপ্রার্থী আল্লাহর কাছে হস্তসম্প্রসারিত করে প্রার্থনা করে, পূর্ণ মাস রোজা পালনের পরআরও কয়েকটি রোজা রাখে, প্রাপ্তির আনন্দে বিভোর হয়, ফরজ রোজা পালন শেষে নফল রোজার প্রতি মনোনিবেশকরে, আত্মনিয়ন্ত্রণের শক্তি অর্জন করে, পরিপক্বতা ও স্থিতিলাভ করে। এসবই হলো শাওয়াল মাসের নামের যথার্থতা।
শাওয়াল মাসের সুন্নত
হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিস দ্বারা প্রমাণিত: শাওয়াল মাসে বিয়েশাদি সুন্নত, যেরূপ শুক্রবারে ও জামেমসজিদে ও বড় মজলিশে আক্দ অনুষ্ঠিত হওয়া সুন্নত।কারণ, মা আয়েশার বিয়ে শাওয়াল মাসের শুক্রবারেমসজিদে নববিতেই হয়েছিল। ছয় রোজা শাওয়াল মাসেরবিশেষ সুন্নত। (সহিহ মুসলিম শরিফ)।
ছয়টি সুন্নত রোজা
এই মাসে ছয়টি নফল রোজা রাখা সুন্নত। রাসুল (সা.) বলেন: যারা রমজানে রোজা পালন করবে এবং শাওয়ালেআরও ছয়টি রোজা রাখবে; তারা যেন সারা বছরই রোজাপালন করল। (মুসলিম, হাদিস: ১১৬৪; আবু দাউদ, হাদিস: ২৪৩৩; তিরমিজি, নাসায়ি, ইবনে মাজাহ, সহিহ-আলবানি)।শাওয়াল মাসের এ ছয়টি রোজা মূলত সুন্নত। যেহেতু রাসুল(সা.) নিজে তা আমল করেছেন এবং আমল করার নির্দেশদিয়েছেন। কিন্তু পরিভাষায় এগুলোকে নফল রোজা বলাহয়। কারণ, এগুলো ফরজ ও ওয়াজিব নয়, অতিরিক্ত তথানফল।
কাজা রোজা ও সুন্নত বা নফল রোজা
রমজান মাসের কাজা রোজা সম্পর্কে মহান আল্লাহ তায়ালাকোরআনে বলেন, ‘তোমাদের মধ্যে যে অসুস্থ থাকবে কিংবাসফরে থাকবে সে (রমজানের পরে) অন্য দিনগুলোতেরোজা রাখতে পারবে।’ (সুরা-২ বাকারা, আয়াত: ১৮৪)। তাইযাঁরা সফরের ক্লান্তির কারণে কিংবা অসুস্থ থাকার কারণেরমজানে পূর্ণ রোজা রাখতে পারেননি, তাঁরা সেগুলোরমজানের পর অন্য সময়ে আদায় করে নেবেন। আর ওইঅসুস্থতার মধ্যে মহিলাদের ঋতুমতী হওয়াও শামিল। এবিষয়ে মা আয়েশা (রা.) বলেন, আমরা রাসুল (সা.)-এর যুগেঋতুমতী হতাম। তখন আমাদের এই রোজা পরে কাজাআদায় করার নির্দেশ দেওয়া হতো; কিন্তু নামাজ কাজাআদায় করার কথা বলা হতো না। (অর্থাৎ ওই অবস্থায়নামাজ মাফ, কিন্তু রোজা মাফ নয়। তা পরে আদায় করেনিতে হবে)। (বুখারি ও মুসলিম; মিশকাত, হাদিস: ২০৩২)।
হজরত আয়েশা (রা.) বলেন, আমার ওপর রমজানের যেকাজা রোজা বাকি থাকত, তা পরবর্তী শাবান মাস ব্যতীতআমি আদায় করতে পারতাম না। (বুখারি, হাদিস: ১৯৫০; মুসলিম, হাদিস: ১১৪৬)। এই হাদিস দ্বারা প্রমাণিত হয়, রমজানের ছুটে যাওয়া কাজা রোজা পরবর্তী রমজান মাসআসার আগে যেকোনো সময় আদায় করা যাবে। রমজানেরকাজা রোজা রাখার জন্য সময় সংকীর্ণ না হলে তার আগেনফল রোজা রাখা বৈধ ও শুদ্ধ। অতএব সময় যথেষ্ট থাকলেফরজ রোজা কাজা করার আগে নফল রোজা রাখতেপারবেন। যেমন, ফরজ নামাজ আদায় করার আগে সময়থাকলে নফল নামাজ আদায় করতে পারেন।
তাই শাওয়ালের ছয়টি সুন্নত রোজা রমজানের কাজা রোজাআদায়ের আগেও রাখা যাবে। যেমন, হজরত আয়েশা (রা.) আমল করতেন। তবে সম্ভব হলে আগে ফরজ রোজারকাজা আদায় করাই উত্তম। (ফাতাওয়া ইসলামিয়্যাহ, খণ্ড: ২, পৃষ্ঠা: ১৬৬)।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *