বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২০, ১১:১৯ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম:
গোবিন্দগঞ্জ পৌরসভার উদ্যোগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিন পালন গোবিন্দগঞ্জে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিন উপলক্ষে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত ব্যাংক হিসাবে আগের মতোই স্বাভাবিক লেনদেন করতে পারবে ইভ্যালি জয়পুরহাটে অপহরণ মামলার আসামীদের হুমকির হাত থেকে রক্ষা পেতে সাংবাদিক সম্মেলন কুড়িগ্রামে রেলের জমি থেকে উচ্ছেদকৃত বাস্তহারাদের ডিসি অফিস অবস্থান কর্মসূচি জয়পুরহাট পৌরসভার সীমানা বর্ধিত করে পল্লী এলাকাকে সংযুক্ত করার প্রতিবাদ গোবিন্দগঞ্জে দুবৃর্ত্তদের হাতে আহত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় স্কুল ছাত্রের মৃত্যু গোবিন্দগঞ্জে আওয়ামীলীগের উদ্যোগে মুজিববর্ষ উপলক্ষে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত স্বামীকে নিয়ে অস্ট্রেলিয়ায় স্থায়ী হবেন নুসরাত ফারিয়া ‘আমার জীবনের সবচেয়ে খারাপ সময় শুরু হয় তখন যখন আমি কেবিসি জিতি’ -সুশীল কুমার।
নড়াইলের কামার পল্লীতে কোরবানী ঈদে হাক ডাক নেই

নড়াইলের কামার পল্লীতে কোরবানী ঈদে হাক ডাক নেই

উজ্জ্বল রায়, নিজস্ব প্রতিবেদক নড়াইলঃ ঈদুল আযহা অর্থাৎ কোরাবনীর ঈদ। সারা বছর অলস সময় পার করলেও কর্মকাররা অপোয় থাকেন কোরবানী বা বকরা ঈদের জন্য। কোরবানীর মৌসুমের ব্যবসা দিয়েই সারা বছরের উপার্জন জোটে তাদের। তাই এই সময় আগে কয়লার চুলায় দগদগে আগুনে গরম লোহায় ছন্দময় পিটাপিটিতে মুখর থাকতো কামার পাড়া। উজ্জ্বল রায়, নিজস্ব প্রতিবেদক নড়াইল জানান,  তাদের টুংটাং শব্দে ভোরেই ঘুম ভাঙতো দোকানের আশেপাশের এলাকার মানুষের। কেউ আসতেন কোরবানী করার অন্যতম অনুসঙ্গী ধারালো ছুরি, বটি, ধামাসহ বিভিন্ন জিনিস তৈরি করতে। আবার কেউবা আসতেন এসব সরঞ্জাম শাণ দিতে। বছরের অন্য সময়ে দিনে ২৫০থেকে ৩০০ টাকা আয় হলেও এ সময়ে আয় হতো ৬০০/৭০০ করে টাকা।
এ বছর করোনা পালটে দিয়েছে নড়াইলের কামার পল্লীতে কোরবানী ঈদে হাক ডাক নেই। কামারশালার চিরচেনা চিত্র। কাঙ্খিত কাজ না পাওয়ায় আয়-রোজগারে ভাটা পড়েছে। আবার যে পরিমাণ কাজ পাওয়া যাচ্ছে কয়লা ও ইস্পাতের অভাবে দা বটি ছুরি বানাতে হিমশিম খাচ্ছেন কর্মকারেরা। তাই পুরোনো ছুরি-চাকু, চাপট, বটি ইত্যাদি শাণ দিয়ে রাখছেন তারা। সরেজমিনে কামার পাড়ায় দেখা গেছে, আগের মতো কর্মব্যস্ততা নেই তাদের। অথচ এই সময়টাতে গ্রাহকের অর্ডার নিয়ে ঠিক সময়ে ডেলিভারি দিতে দোকানে বাড়তি কর্মচারী নিয়োগ দিয়েও হিমশিম খেতে হতো। আগে ভাগেই কাঁচা লোহা কিনে রাখতে হতো। শাণ দেওয়ার যন্ত্রে ব্যবহারের জন্য মজুদ করতে হতো কয়লা। আর এখন এ পরিস্থিতিতে গ্রাহকের অপোয় থাকতে হচ্ছে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত। পুরোনো দা বটি ছুরিতেই শাণ দিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন তারা অনেকে। পূর্ব পুরুষের হাত ধরে এই কামার পেশায় এসেছেন তাদের অধিকাংশরা। একেতো আধুনিক যন্ত্রাংশের দাপটে কামার শিল্পে চলছে দুর্দিন। তারপরও বাপ-দাদার পেশা টিকিয়ে রেখেছেন অনেকে। সদর উপজেলার প্রাচীনতম বাজারের দিলিপ কর্মকার বলেন, ঈদের এক মাস আগে থেকেই দা, ছুরি, বটি, চাপট ইত্যাদি তৈরি করা শুরু করতাম। আর কোরবানের এক সপ্তাহ আগে থেকে বেচা-বিক্রি শুরু হয়ে চলতো ঈদের আগ মুহুর্ত পর্যন্ত। একেত এপেশার দুর্দিন তার উপর মহামারী করোনার অগ্রাশন সব মিলিয়ে হ-য-ব-র-লা অবস্থা। এ বছর তেমন কাজ পাওয়া যায়নি। তাই পুরোনো ছুরি, চাপট, বটি, শাণ দিয়ে রাখছি বিক্রির আশায়। এবার তেমন কাজ নেই। অন্যান্য বছরের ন্যায় এবার কাজই নাই। করোনার কারণে কাজ কমে গেছে অনেক গুন। বাজারের বহু পুরানো নিখিল কর্মকর বলেন, দোকান ভাড়া, কর্মচারীদের বেতনসহ আনুষঙ্গিক খরচ দিয়ে সারাবছরই লোকসানে থাকতে হয়। এ লোকসান কাটিয়ে উঠতে আমরা কোরবানি ঈদের অপোয় থাকি। এবার মাত্র কয়েকটি দা-ছুরি বিক্রি ও শাণ দেওয়ার কাজ পেয়েছি। এ ছাড়াও বিভিন্ন হার্ডওয়ার দোকানে চায়না থেকে আমদানী করা মাংস কাটার ধারালো অস্ত্র পাওয়া যাচ্ছে। মানুষ সেগুলো কেনায় কামারদের কাছে অনেকেই আসছেন না।
শুধু এই এলাকায় নয়, একই অবস্থা জেলার বিভিন্ন স্থানে। অন্যান্য বারে কোরবানির মৌসুমে তিন থেকে চারজন অতিরিক্ত লোক রাখলেও এবার নিজেরা কাজ সারতে হচ্ছে। প্রতি বছরের তুলনায় চার ভাগের একভাগও কাজ নেই। মাংস কাটার সরঞ্জামের দাম আগের মত কিন্তু কয়লার দাম বেশি। পরিচিতরা আসলেও নতুন কোন ক্রেতা নেই দোকানে।

নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © 2020 nbnews71.com
Design & Developed BY NB Web Host