শিরোনাম

সেন্টমার্টিন যাওয়া হলোনা তাদের- রামুতে পিকনিকের বাস ব্রীজের নিচে, আহত ৩৫

Spread the love

নীতিশ বড়ুয়া, রামু (কক্সবাজার)
কক্সবাজারের রামুর পুরাতন আরকান সড়কের লম্বা ব্রীজ থেকে পিকনিকের বাস নিয়ন্ত্রন হারিয়ে ব্রীজের নীচে পড়ে অন্তত ৩৫ জন যাত্রী আহত হয়েছে। এদের মধ্যে গুরুতর আহত ১৮ জনকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে প্রেরন করে বাকিদের রামু স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়েছে হাসপাতালের চিকিৎসকরা। তারা জানান এদের মধ্যে এক জনের অবস্থা আশংকাজনক।
দুর্ঘটনাটি ঘটেছে শনিবার (১৮ জানুয়ারি) সকাল ৬টার দিকে। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে রামু থানা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের লোকজন দুর্ঘটনাকবলিত বাস সাব্বির এন্টারপ্রাইজ (ঢাকা মেট্রো-ব -১১-৫৮২৫) থেকে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায় এ সময় স্থানীয় জনগন উদ্ধার কাজে সহায়তা করেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পিকনিকের বাসটি রামুর বাইপাস সড়কের উত্তর পার্শ্বে পুরাতন আরকান সড়কের ভাঙ্গা ব্রীজ নামের লম্বা ব্রীজ অতিক্রম করার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ব্রীজের নিচে পড়ে যায়। এতে ওই বাসে থাকা অন্তত ৩৫ জন যাত্রী আহত হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের লোকজন ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় আহতদের উদ্ধার করে রামু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।
রামু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. ওয়ালিউর রহমান ও ডা. অনিক বড়ুয়া জানান, ভোর ৬ টার দিকে সড়ক দূর্ঘটনায় আহত ৩৫ জনকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে গুরুত্বর আহত  ১৮ জনকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে। তবে একজনের অবস্থা আশংকাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
ওই বাসের যাত্রী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র,
আহত নাজমুল হাসান জানান, বরিশাল, পটুয়াখালী মির্জাগঞ্জ উপজেলা স্টুডেন্ট ওয়েব, ঢাকার ব্যানারে তারা দুইটি বাস নিয়ে ঢাকা থেকে সেন্টমার্টিন ভ্রমনে যাচ্ছিল। এরা সবাই বরিশাল, পটুয়াখালী মির্জাগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা এবং ঢাকার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী এবং পেশাজীবি। তিনি জানান, বাসের যাত্রীরা ভোরে ঘুমে অচেতন। হঠাৎ বাসটি খাদে পড়ে যায়। এতে বাসের যাত্রীরা সবাই আহত হয়।
রামু হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়া ব্যক্তিরা হলেন, পটুয়াখালী, মির্জাগঞ্জ এলাকার শাহাজাহানের ছেলে আবির (২১), নাছির উদ্দীনের ছেলে আতিক (২২), আবু বশরের ছেলে মোছাদ্দেক (২২), নুরুল আমিনের ছেলে সোহান (২২), রফি উদ্দীনের ছেলে ইউনুচ (২৪), মোস্তফা গাজীর ছেলে তরিকুল ইসলাম (২৬), হাবিবুর রহমানের ছেলে আব্দুর রউফ (২৫), মশরফ হুসাইনের ছেলে আবু মুছা(২৭), জাকির হুসাইনের ছেলে মন্জুরুল হুসাইন সাকিব (১৯), আব্দুল জাব্বার মৃধার ছেলে মেহেদী হুসাইন, কবিরের ছেলে নয়ন, মোতাহের সিকদারের ছেলে নাঈম হুসাইন (২২), আলতাফ হুসাইনের ছেলে ফয়সাল (২০), জাহাঙ্গীর আলমের ছেলে মোশরফ হুসাইন(২৫), বাচ্ছুর ছেলে সাইফুল ইসলাম বাপ্পি (৩০), শাহা জমালের ছেলে নিজাম (২৬),
আশরাফ আলীর ছেলে হাসিব (১৯), আব্দুল মান্নানের ছেলে  সজল (২৬), জাকির হুসাইন খানের ছেলে নজরুল হক সাকিব (১৯), নাহিদের মেয়ে রহিমা(২৬), শহিদুল ইসলামের ছেলে শফিক (২৪), বেলাল হোছাইনের ছেলে মোহাম্মদ (২৬), আব্দুর শুকুরের ছেলে গফুর (২৫), শ্রীনগর, পটুয়াখালী এলাকার মোছাদ্দেকের ছেলে সাইফুল ইসলাম (২৭),  শরীয়তপুরের আসাদ আলীর ছেলে আবু বক্কর সিদ্দীক(২৫), বরিশালের শহিদুল ইসলামের ছেলে মোনাফ হুসেন সাঈদ (২৫), আমতলী, বরগুনা এলাকার জালাল উদ্দিনের ছেলে জাহিদ ইসলাম,  মোতাহের হোসাইনের ছেলে জিয়াউল করিম, ঢাকার আলতাফ হোসাইনের ছেলে নাজমুল হুসাইন(২৫), নজরুল ইসলামের ছেলে জুয়েল (২৭), বরগুনা, সদরের খলিলুল্লাহর ছেলে আল আমিন (২৬), কুমিল্লার সুলতানপুর এলাকার সুলতান আহমেদের ছেলে মাহিম (২৭), পটুয়াখালীর আবু তৈয়ব সিকদারের ছেলে রাজিব (২৭), যশোরের মশরফ হোসেনের ছেলে , বকতিয়ার (২৫) এবং মির্জাপুর ঢাকা এলাকার আলতাফ হোসেনের ছেলে নোমান (২৭)।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *