শিরোনাম

ই-পাসপোর্টের জন্য অনলাইনে আবেদন করার বিস্তারিত নিয়ম

বর্তমানে রাজধানীর আগারগাঁও, ক্যান্টনমেন্ট, উত্তরা ও যাত্রবাড়ী পাসপোর্ট অফিসে ই-পাসপোর্টের কার্যক্রম শুরু চালু আছে। এই বছরেই পর্যায়ক্রমে বিভাগীয় অফিস, আঞ্চলিক অফিস ও বিদেশস্থ বাংলাদেশ মিশন সমূহে ই-পাসপোর্ট সেবা চালু হবে। তখন প্রতিদিন প্রায় ২৫ হাজার ই-পাসপোর্ট ইস্যু করা যাবে। এখন সীমিত আকারে ই-পাসপোর্ট সেবা চালু আছে। শুধুমাত্র ঢাকা জেলায় বসবাসকারী ই-পাসপোর্টের জন্য আবেদন করতে পারবে।

 

এক নজরে জেনে নেওয়া যাক ঢাকার কোন থানার আবেদনকারীরা কোন পাসপার্ট অফিসের অধীনে ই-পাসপোর্ট ইস্যু করতে পারবেন।

আগারগাও অফিসঃ  গুলশান, হাজারীবাগ, কদমতলী, কাফরুল, কলাবাগান, কামরাঙ্গীরচর, খিলক্ষেত, লালবাগ, মিরপুর, মোহাম্মদপুর, মতিঝিল, মুগদা, নবাবগঞ্জ, নিউমার্কেট, পল্লবী, পল্টন, আদাবর, বনানী, বংশাল, চকবাজার মডেল, চকবাজার, দক্ষিণখান, দারুস সালাম, ডেমরা, ঢাকা রেলওয়ে, ধামরাই, ধানমন্ডি, রমনা, রামপুরা, রূপনগর, সাভার, শাহ আলী, শাহবাগ, শাহজাহানপুর, শাহজালাল এয়ারপোর্ট, শের-ই-বাংলা, শ্যামপুর, সূত্রাপুর, তেজগাঁও, তেজগাঁও বা/এ, তেজগাঁও বানিজ্যিক এলাকা, ভাষানটেক ও ভাটরা।

 

যাত্রাবাড়ী অফিসঃ যাত্রাবাড়ী, কদমতলি, কেরানীগঞ্জ, খিলগাঁও, কোতয়ালী, দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ, দোহার, গেন্ডারিয়া ও সবুজবাগ।

 

উত্তরা অফিসঃ উত্তরা, উত্তরা পশ্চিম, উত্তরা পূর্ব, উত্তরখান, এয়ারপোর্ট, তুরাগ, আশুলিয়া ও বাড্ডা।

 

ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট অফিসঃ ক্যান্টনমেন্ট।

 

ই-পাসপোর্টের আবেদনঃ

প্রথমে কম্পিউটার/ল্যাপটপের ওয়েব ব্রাউজার থেকে www.passport.gov.bd সাইডে যেতে হবে। এখানে বাংলা ও ইংরেজি দুই ভাষাতেই অনলাইনে ই-পাসপোর্টের আবেদন করা যাবে। Apply Online অপশনে ক্লিক করতে হবে। একটি ডায়ালগ বক্স আসবে এবং তাতে কিছু তথ্য প্রদান করবে। এবার OK চাপতে হবে। সাথে সাথে অনলাইনে ই-পাসপোর্ট আবেদনের প্রসেস শুরু হয়ে যাবে।

 

Step 1: Check availability of e‑Passport in your region

১. প্রথমে আবেদনকারী বাংলাদেশ নাকি বিদেশ থেকে ই-পাসপোর্টের জন্য করছে প্রথমে সেটা কর্নফার্ম করতে হবে।

২. তারপর আবেদনকারীর জেলা সিলেক্ট করে আবেদনকারীর থানা সিলেক্ট করলেই সেই এরিয়ার পাসপোর্ট অফিস স্বয়ক্রিয়ভাবে চলে আসবে।

৩. এবার Continue এ ক্লিক করতে হবে।

 

Step 2: Enter your email address

১. আবেদনকারীর ইমেইল/জিমেইল এ্যাড্রেস দিতে হবে।

২. এবার Continue এ ক্লিক করতে হবে।

 

Step 3: Enter your account information

এই ধাপে ই-পাসপোর্ট আবেদনের জন্য আবেদনকারীর ইমেল, নাম ও মোবাইল নাম্বার দিয়ে একটি অনলাইন একাউন্ট খুলতে হবে।

১. ইমেলের নিচের বক্সে আবেদনকারীর একাউন্টের জন্য ইচ্ছামত পাসওয়ার্ড লিখতে হবে। অক্ষর ও সংখ্যা মিলিয়ে কমপক্ষে ৬ সংখ্যার পাসওয়ার্ড দিতে হবে। তবে পাসওয়ার্ডে কমপক্ষে একটি বড় হাতের ও একটি ছোট হাতের অক্ষর থাকতে হবে।

২. ইমেইল এ্যাড্রেসের নিচে জাতীয় পরিচয়পত্র অনুসারে আবেদনকারীর সম্পূর্ণ নাম লিখতে হবে।

৩. আবেদনকারীর নামের প্রথম অংশগুলো Given Name এ লিখতে হবে।

৪. আবেদনকারীর নামের শুধুমাত্র শেষ অংশ Surname এ লিখতে হবে।

৫. আবেদনকারীর মোবাইল নাম্বার দিতে হবে।

৬. এবার Create Account এ ক্লিক করতে হবে।

আবেদনকারীর ইমেলে একটি নোটিফিকেশন চলে যাবে।

Step 4: Activate e‑Passport account

ইমেইল থেকে ই-পাসপোর্ট একাউন্ট এ্যাক্টিভিশন লিংকে ক্লিক করে একাউন্টটি এ্যাক্টিভ করতে হবে। মেইলে নোটিফিকেশন পাওয়া না গেলে রি-সেন্ড করা যাবে। তবে মেইল খুঁজে না পেলে স্প্যাম ফোল্ডার চেক করতে হবে। সার্ভারের কারনে মাঝে মাঝে মেইল পেতে সমস্যা হয়। মেইল থেকে একাউন্ট এ্যাক্টিভ করলেই সেই একাউন্ট আবেদনের জন্য প্রস্তুত।

 

এবার Sign In অপশন থেকে ইমেল এ্যাড্রেস ও পাসওয়ার্ড দিয়ে Enter Online Registration Portal এ লগিং করে My e‑Passport applications একাউন্টে ঢুকতে হবে। একটি একাউন্ট থেকে সর্বোচ্চ ১০টি আবেদন প্রসেস বা সাবমিট করা যাবে। প্রয়োজনে একাউন্ট থেকে অপ্রয়োজনীয়, অসম্পূর্ণ, ভুল ও অতিরিক্ত আবেদনগুলো ডিলিট করা যাবে। এমনকি মোবাইল নাম্বার পরিবর্তন করা যাবে। পাশাপাশি প্রত্যেকটি আবেদনের স্ট্যাটাস ও সিডিউল দেখা যাবে।

নতুন ই-পাসপোর্টের আবেদনের জন্য Apply for a new e-passport এ ক্লিক করতে হবে। তারপর পাসপোর্টের আবেদন জন্য আগের মতই তথ্য চেয়ে বিভিন্ন বক্স আসবে। তবে প্রথমেই আবেদনকারীকে জিজ্ঞাসা করা হবে আপনি কার জন্য আবেদন করছেন। নিজের জন্য হলে বক্সে টিক চিহ্ন দিতে হবে। অন্য কারো জন্য আবেদন হলে বক্সে টিক চিহ্ন দেওয়ার দরকার নেই।

 

অনলাইনে ই-পাসপোর্ট আবেদনের তথ্য পূরণের মোট ৮টি ধাপ আছে।

১. Personal Information

২. Previous passport

৩. Address

৪. Parental information

৫. Spouse Information

৬. Emergency contact

৭. Passport options

৮. Delivery options

এমআরপির মতই অনলাইনে আবেদনকারীর তথ্য সব পূরণ করতে হবে। তবে বয়স্কদের ক্ষেত্রে জাতীয় পরিচয়পত্র ও অপ্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে জন্মনিবন্ধন সনদ দাখিল বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। তাই আবেদন ফরমে আবেদনকারীর পূর্ণাঙ্গ জন্ম তারিখ দিলেই তা সার্ভার থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ডিটেক্ট করবে আবেদনকারী অপ্রাপ্তবয়স্ক নাকি প্রাপ্তবয়স্ক, তারপর সে অনুযায়ী তার জন্ম-নিবন্ধন অথবা এনআইডি নাম্বারের অপশন যোগ হবে। আবেদনকারীর বাবা, মা ও স্বামী বা স্ত্রীর ক্ষেত্রে তাদের বিস্তারিত পূরণের পাশাপাশি তাদের জাতীয় পরিচয়পত্র নাম্বার দেয়া যাবে। তবে জাতীয় পরিচয়পত্র নাম্বার না দিলেও কোন সমস্যা হবে না। এতিম-অনাথদের ক্ষেত্রে বিশেষ করে যাদের পিতা কিংবা মাতার পরিচয় অজ্ঞাত আছে, তারা পিতা অথবা মাতা যেকোন একটি অংশ বাদ দিয়ে যেতে পারবে। এক্ষেত্রে পিতা অথবা মাতার ঘরের উপরে Unknown বক্সে  টিক চিহ্ন দেওয়া যাবে। কোনভাবেই পিতা-মাতা অর্থাৎ দুইটি অংশই বাদ দিতে পারবে না।

সব তথ্য পূরণ শেষে আবেদনকারী কত পাতার পাসপোর্ট কত বছর মেয়াদে ইস্যু করতে ইচ্ছুক সেটা সিলেক্ট করতে হবে। নিচে মোট পরিশোধযোগ্য টাকার পরিমান দেখা যাবে।

 

ই-পাসপোর্টের পেজ ও মেয়াদ সিলেক্ট করার পরে ডেলিভারির জন্য Regular ও Express অপশন আসবে। যে কোন একটি অপশন সিলেক্ট করতে হবে। এখানে Regular বাদ দিয়ে Express সিলেক্ট করলে দ্রুত সেবার জন্য অতিরিক্ত টাকা চার্জ করবে এবং নিচে মোট পরিশোধযোগ্য টাকার পরিমান দেখাবে। বর্তমানে অতি জরুরী পাসপোর্ট ইস্যু করার কোন ব্যবস্থা/অপশন নেই। তবে শীঘ্রই এটি চালু করা হবে।

নিম্নোক্ত হারে পাসপোর্ট ফি প্রযোজ্য হবে (ভ্যাটসহ) :
৫ বছর মেয়াদী ৪৮ পাতার পাসপোর্ট
সাধারণ (২১ কর্মদিবস) ৪০২৫/- টাকা
জরুরী (১০ কর্মদিবস) ৬৩২৫/- টাকা

১০ বছর মেয়াদী ৪৮ পাতার পাসপোর্ট বইঃ
সাধারণ (২১ কর্মদিবস) ৫,৭৫০/- টাকা
জরুরী (১০ কর্মদিবস) ৮,০৫০/- টাকা

৫ বছর মেয়াদী ৬৪ পাতার পাসপোর্ট বইঃ
সাধারণ (২১ কর্মদিবস) ৬৩২৫/- টাকা
জরুরী (১০ কর্মদিবস) ৮৬২৫/- টাকা

১০ বছর মেয়াদী ৬৪ পাতার পাসপোর্ট বইঃ
সাধারণ (২১ কর্মদিবস) ৮,০৫০/- টাকা
জরুরী (১০ কর্মদিবস) ১০,৩৫০/- টাকা

আবেদনকারীর সব তথ্য ঠিক থাকলে Confirm and proceed to payment এ ক্লিক করতে হবে। আবেদনে কোন ভুল থাকলে কিংবা কোন তথ্য ছাড়া পড়লে Confirm and proceed to payment এ ক্লিক করার আগে Edit এ ক্লিক করে তা ঠিক করে নেওয়া যাবে। দুইভাবে ই-পাসপোর্টের পেমেন্ট দেওয়া যাবে।

১. Offline payment

২. Online Payment

Offline payment শুধু সোনালী ব্যাংক, ট্রাস্ট ব্যাংক, ব্যাংক এশিয়া, ঢাকা ব্যাংক ও ওয়ান ব্যাংক ও প্রিমিয়ার ব্যাংকের মাধ্যমে দেওয়া যাবে। তাহলে আবেদনকারীকে টাকা জমা দিতে ব্যাংকে যেতে হবে। সেক্ষেত্রে আগে ব্যাংকে গিয়ে টাকা জমা দিয়ে এসে অনলাইনে আবেদন করলে সময় কম লাগবে। যদি আবেদন পূরণ করা হয়ে থাকে তবে সেটি সেভ করে রেখে ব্যাংকে গিয়ে টাকা জমা দিয়ে এসে ঠিকঠাক মত অফলাইন পেমেন্টের বিস্তারিত পূরণ করলেও হবে।

Online Payment এর জন্য বর্তমানে শুধুমাত্র ই-চালান সিস্টেম চালু রয়েছে। ই-চালানে সোনালী ব্যাংকের কিউক্যাশ কার্ড ও অনলাইন একাউন্ট ট্রান্সফার, ডাচ-বাংলা নেক্সাস কার্ড, রকেট ও বিকাশের মাধ্যমে টাকা জমা দিয়ে তাৎক্ষণিক ই-চালানের পেমেন্ট পরিশোধ করা যাবে। এক্ষেত্রে কোন সময় লাগবে না। ই-চালানে পেমেন্ট সংক্রান্ত ব্যাপারে কোন ঝামেলা হলে ই-চালান টিমের ইমেইল কিংবা হট লাইনে কল করলেই সমাধান পাওয়া যাবে।

 

ই-পাসপোর্টের পেমেন্ট সম্পন্ন হলে পাসপোর্ট অফিসে যাওয়ার জন্য একটি এ্যাপয়েন্টমেন্ট তারিখ সিলেক্ট করতে হবে। তারপর আবেদনের পিডিএফ ফাইলটি ডাউনলোড করে কালার প্রিন্ট করতে হবে। তারপর আবেদন ফরমে আঠা দিয়ে সম্প্রতি তোলা রঙ্গীন ছবি লাগাতে হবে। পেমেন্ট সংক্রান্ত কোন অনলাইন/অফলাইন স্লিপ থাকলে তা আবেদন ফরমের উপরে নির্দিষ্ট স্থানে আঠা দিয়ে লাগাতে হবে। এনআইডি কার্ড, জন্ম নিবন্ধন সনদ, সর্বশেষ শিক্ষাগত যোগ্যতার সার্টিফিকেট ও সংশ্লিষ্ট পেশার প্রমাণ হিসাবে আইডি কার্ড এসবের ফটোকপি এবং সদ্য পরিশোধকৃত বিদ্যুৎ/গ্যাস/টেলিফোন বিলের মেইন অংশ ও মূল নাগরিক সনদ সাথে করে নিয়ে যেতে হবে। তাতে পাসপোর্ট অফিসে অতিরিক্ত কোন ঝামেলা করার সুযোগ থাকবে না। আবেদন ফরমে ছবি কিংবা কোন ডকুমেন্ট সত্যায়িত করার প্রয়োজন নেই। তবে ই-পাসপোর্ট আবেদনে কোন কিছু সত্যায়ন করা না লাগলেও পুলিশ ভেরিফিকেশন ঠিকই আগের মত হবে।

আবেদনপত্র জমা দেওয়ার সময় ই-পাসপোর্টের জন্য ডেমোগ্রাফিক তথ্য, ছবি, ১০ আঙুলের ছাপ, চোখের কর্নিয়ার ছবি ও ডিজিটাল সই সংগ্রহ করবে পাসপোর্ট অফিস। তারপর আবেদনকারীকে একটি ডেলিভারি স্লিপ দিবে। স্লিপে একটি এনরোলমেন্ট আইডি ও পাসপোর্ট ডেলিভারি দেওয়ার তারিখ উল্লেখ থাকবে। পাসপোর্ট ডেলিভারি দেওয়ার আগে ইমেইল/মোবাইলে এসএমএসে মাধ্যমে আবেদনকারীকে জানিয়ে দেওয়া হবে। আর আবেদনকারী চাইলে যেকোন সময় ই-পাসপোর্ট সাইটে গিয়ে তার আবেদনের স্ট্যাটাস জানতে পারবে। সেক্ষেত্রে এনরোলমেন্ট আইডি ও জন্ম তারিখ দিয়ে তা যাচাই করতে হবে। তবে ইমেইল বা মোবাইলে এসএমএস না পেলে নির্দিষ্ট তারিখে পাসপোর্ট আনতে পাসপোর্ট অফিসে যাওয়া উচিৎ হবে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *