শাড়ি বাঙ্গালী মেয়েদের অলংকার: মডেল জান্নাতুল ফেরদাউস অন্তরা

Spread the love

ডেস্ক নিউজ:এই সময়ের ছোট পর্দার মিষ্টি মেয়ে জান্নাতুল ফেরদাউস অন্তরা সব সময় সাদা মাঠা জীবন যাপন করতে পছন্দ করে শাড়ি ছুটির দিন গুলোতে শাড়ি পরে বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিতে পছন্দ করে ।তাই তো অন্তরা বলেন শাড়ীতে নারী আর এই শাড়ীতেই লুকিয়ে থাকে ষোলআনা বাঙালীয়ানা। তাই বাঙালী নারীদের কাছে বছর জুড়েই শাড়ীর কদর। আর তা যদি হয় সুতি তাহলে তো কথাই নেই্। বিদেশী নানা কাপড়ের ভিড়ে সুতি আপনাকে করে তুলতে পারে একেবারে অন্যরকম।সুতি শাড়ী সাজ পোশাকেও আনে ভিন্নতা।কথায় আছে বাঙালী নারীর সৌন্দর ফুটে ওঠে শাড়ীতে তবে এখন অনেকেই দৈনন্দিন জীবনে কর্মব্যস্ততার কারনে শাড়ী থেকে দূরে সরে এসেছেন। আবার তরুণীদের মধ্যে শাড়ী পরার প্রবনতা ইদানিং লক্ষ্য করা যায়। ওরা শাড়ীকেই বেছে নিচ্ছে বিশেষ পোশাক হিসেবে। কর্মস্থলেও ওরা পড়ছে শাড়ী। কোনো অনুষ্ঠানেও তাদের শাড়ী পরার ঝোঁক বেড়ে গেছে।বাঙালী নারীর সঙ্গে শাড়ীর সম্পর্ক শুধু ফ্যাশনে নয়- বরং দৈনন্দিন প্রয়োজন, ভালোলাগা, উৎসব ও আয়োজনে অনন্য অনুসঙ্গ শাড়ি।হাল ফ্যাশনে নারীরা পাশ্চাত্যের ডিজাইনের দিকে ঝুঁকে থাকলেও বিয়ে বা নানা উৎসবে তারা শাড়িতে নিজেকে সাজাতে ভালোবাসে। তবে ব্যস্ত জীবনের বাহানাতে শাড়ি পরার চেয়ে সালোয়ার কামিজ বা ওয়েস্টার্ন ড্রেস পরার ইতিহাস খুব বেশি দিনের নয়।

ঘরেতে এল না সে তো, মনে তার নিত্য আসা-যাওয়া—
পরনে ঢাকাই শাড়ি কপালে সিঁদুর।’

– কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের এ দুটি লাইন হাজার বছরের বাঙালি নারীদের সহজ সাবলীল রূপ। আর শাড়ি ছাড়া বাঙালি নারীকে কোন কালে কল্পনা করা যায় না।
বাঙালি নারী আর শাড়িকে যেমন আলাদা করে দেখা যায় না। তেমনি বিশাল এ শাড়ি কোন গড়নের নারীকে ভালো লাগবে কি লাগবে না তা চিন্তা করা বাতুলতা মাত্র। আবার অনেকেই মনে করেন, শাড়ি পড়লে তাকে দেখতে অনেকটা মোটা লাগে। যা একদম ভুল কথা। আবার অনেকে নিজের শারীরিক গঠন নিয়ে অসন্তুষ্ট, তাই এড়িয়ে চলেন শাড়ি। কিন্তু শাড়ি পড়ার ধরনেও বদলে যেতে পারে শারীরের আকৃতি।
শাড়ি পৃথিবীর সবচেয়ে যৌনাবেদনপূর্ণ অথচ শালীন পোশাক। শুধু শালীন নয়, রুচিসম্পন্ন, সুস্মিত ও কারুকার্যময় পোশাক। নারী শরীরকে যতটুকু অনাবৃত রাখলে তা সবচেয়ে রহস্যচকিত হয়ে ওঠে, পোশাক হিসেবে শাড়ি তারই উপমা। শরীর আর পোশাকের ওই রমণীয় এলাকা বিভাজনের অনুপাত শারীর রচয়িতারা কি জেনে না না জেনে খুঁজে পেয়েছিলেন, সে কথা বলা না গেলেও এর পেছনে যে গভীর সচেতন ও মুগ্ধ শিল্পবোধ কাজ করেছিল, তাতে সন্দেহ নেই। আধুনিক শাড়ি পরায় নারীর উঁচু-নিচু ঢেউগুলো এমন অনবদ্যভাবে ফুটে ওঠে, যা নারীকে করে তোলে একই সঙ্গে রমণীয় ও অপরূপ। শাড়ি তার রূপের শরীরে বইয়ে দেয় এক অলৌকিক বিদ্যুৎ হিল্লোল।

কোনো এক কবিতায় কবি ওমর আলী লিখেছিলেন, ‘এ দেশের শ্যামল রং রমণীর সুনাম শুনেছি।’ কেন এই শ্যামল নারীদের রূপের এত সুনাম? এর কারণ তিনি ব্যাখ্যা করে বলেননি, কিন্তু তাই বলে গড়পড়তা বাঙালি নারী রূপের দিক থেকে পৃথিবীর সেরা সুন্দরীদের মধ্যে পড়ে এ বললেও যেন কিছুটা বেশি শোনাবে। বাঙালি পুরুষদের ব্যাপারেও হয়তো তাই। ইংল্যান্ডের কথা বলতে গিয়ে রবীন্দ্রনাথ লিখেছিলেন: এখানে রাস্তায় বেরোনোর বড় সুবিধা যে থেকে থেকেই সুন্দর মুখ দেখতে পাওয়া যায়। বাঙালি জাতির বেলায় কথাটা হয়তো ওভাবে খাটবে না। তবে মাঝে মাঝে এ দেশেও যে এক আধজন সুন্দর মুখের দেখা পাওয়া যায় না, তাও নয়। তবে একটিমাত্র কারণেই কেবল তা হতে পারে; যদি তারা তাদের কমনীয় শাড়িগুলোকে নান্দনিক বা সুরুচিসম্মতভাবে পরতে পারে। রবীন্দ্রসংগীতের সুরের সঙ্গে রবীন্দ্রসংগীতের অনিন্দ্য কথা যোগ হলে যা হয় আমাদের প্রিয়দর্শিনী ললনারা তখন তাই হয়ে যায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *