শিরোনাম

মোংলা উপজেলায় উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যবস্থায় সুফল পাচ্ছেন নিরক্ষর নর-নারীরা

Spread the love
মোঃহাফিজুর রহমান , মোংলা প্রতিনিধিঃ
মোংলা উপজেলায় উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যবস্থায় সুফল পাচ্ছেন নিরক্ষর নর-নারীরা। বাংলাদেশ সরকারের প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপানুষ্ঠানিক ব্যুরোর মৌলিক সাক্ষরতা প্রকল্পের আওতায় এ শিক্ষাদান করা হচ্ছে।
উপজেলার ১৫ থেকে ৪৫ বছর বয়সের নিরক্ষর নারী পুরুষ পাচ্ছে শিক্ষার আলো। এ মেয়াদে এই শিক্ষা প্রকল্পের অধীন ৩০০টি শিখন কেন্দ্রের মাধ্যমে দিনে ৩০ জন করে নারী ও রাতে ৩০ জন পুরুষ শিক্ষার্থীকে শিক্ষা দান করা হয়। কেন্দ্র প্রতি শিখন কেন্দ্রে একজন নারী ও একজন পুরুষ শিক্ষক কর্মরত আছেন। শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়মানুসারে চলছে কি না তার দেখভাল করার জন্য আছে ১৫ জন সুপারভাইজার। এই উপজেলায় মোট ১৮ হাজার শিক্ষার্থীকে প্রতিদিন দু’ঘন্টা করে শিক্ষা প্রদান করা হচ্ছে। উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর একজন উপজেলা প্রোগ্রাম অফিসারও কর্মরত রয়েছেন।
২০১৮ সালের ১৭ ডিসেম্বর মোংলা উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় মোট ৩০০ শিখন কেন্দ্র একযোগে উদ্বোধন করা হয়। বাগেরহাট  জেলার জেলা প্রশাসক জানান  মোংলা উপজেলার এর সুফল আসবে।
 মোংলা উপজেলা নির্বাহী অফিসার বলেন,বনায়নে ও পরিবেশ সুরক্ষায়  উদায়ন বাংলাদেশ  বেসরকারী  সামাজিক উন্নয়ন সংস্থা এই সাক্ষরতা কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে। সংস্থাটি উপজেলার ১৫ থেকে ৪৫ বছর বয়সের প্রায় ৩৬ হাজার নিরক্ষর নারী-পুরুষকে সনাক্ত করে। তার মধ্যে প্রকল্পের নিয়মানুসারে প্রথম ভাগে ১৮ হাজার নিরক্ষর নারী-পুরুষকে শিক্ষা দান করা হচ্ছে।
মোংলা উপজেলার সুন্দরবন ইউনিয়ানের সুপারভাইজার হুমায়ুন (৩০)বলেন, এই এলাকায় নিরক্ষরদের  আগে লেখাপড়া করার সুযোগ হয়নি। এখানে শিখতে এসে তারা নাম ঠিকানা লেখাসহ ছোটখাটো হিসাব নিকাশ করতে পারে।
প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থার মোংলার এক কর্মরত কর্মকর্তা কবির হোসেন বলেন, এ প্রকল্প বাস্তবায়নে তার সংস্থা সরকারের নিয়মের পরিপন্থী কোন কাজ করেনি বরং যথাসময়ে নির্দেশ মোতাবেক সঠিক কাজটি করার কোন ব্যতয় ঘটায়নি। শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং সুপারভাইজাররা সঠিকভাবে তাদের দায়িত্ব পালন করছেন। কিন্তু পারিতোষিক খুবই নগন্য বিধায় তা বাড়ানোর জন্য সরকারের কাছে দাবি জানাই।
শেখ আসাদুজ্জামান, নির্বাহী পরিচালক মোংলা,  বলেন, বাগেরহাট  জেলার মোংলা উপজেলার  উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা  ব্যুরোর অধীনে  উদায়ন বাংলাদেশ এর মৌলিক সাক্ষরতা প্রকল্প (৬৪ জেলা ) এর কার্যক্রম  সফল এবং সুন্দর ভাবে  হচ্ছে  । প্রাথমিক ও গণশিক্ষা  মন্ত্রণালয় , ঢাকা কর্তৃক বাস্তবায়নকারী  উদায়ন বাংলাদেশকে নির্বাচন করা হয়েছে । প্রকল্পের  আওতায় মোংলা উপজেলায় (১৫-৪৫ বছরের) নিরক্ষর নারী পুরুষকে মৌলিক সাক্ষরতা প্রদান করা হয় । বাগেরহাট জেলার মোংলা উপজেলায় কর্মসুচি বাস্তবায়ন হয়েছে  উদায়ন বাংলাদেশ  এবং মোংলা উপজেলায় বাস্তবায়ন করেছে উদায়ন বাংলাদেশের মোংলা শাখার কর্মরত কর্মকর্তা বৃন্দ । প্রতিটি উপজেলার সকল (১৫-৪৫ বছরের) নিরক্ষরকে এ কর্মসূচির আওতায়  আনা হয়েছে । নিরক্ষর জরীপ, শিক্ষক-সুপারভাইজার নিয়োগ ও কেন্দ্র স্থাপনের কার্যক্রম এবং পরিক্ষা  ফলপ্রসূ হয়েছে ।  উল্লেখ্য যে,মোংলা উপজেলা সকল পরিক্ষা ও রেজাল্ট  কার্যাদি ইতোমধ্যেই সম্মপন্ন হয়েছে। কার্যক্রমে সকল শ্রেনীর ও পেশার নির্বিশেষে সকলকে সহযোগিতা করছে। মোংলার উদায়ন বাংলাদেশের কর্মকতা  কবির হোসেন জানান মোংলা উপজেলাকে নিরক্ষরমুক্ত করার যাদের একান্ত সহযোগিতা ও মূল্যবান পরামর্শ দিয়েছেন  উদায়ন বাংলাদেশের  জেলা কর্মরত কর্মকর্তা  ইসরাত জাহান এবং উদায়ন বাংলাদেশ এর শেখ আসাদুজ্জামান, নির্বাহী পরিচালক মোংলা,শেখ সরোয়ার হোসেন (আবু),শাহজাহান শেখ,শেফালী এবং মোংলায় আমার সহযোদ্ধা সুপার ভাইজার ও শিক্ষক বৃন্দগন নিয়মিত  ক্লাস ও পরিক্ষা নিয়ে এই প্রকল্প সুনামের সাথে  করতে অগ্রসর হচ্ছে । কবির হোসেন আরো বলেন আমরা আসহায় মানুষকে ভিবিন্ন ভাবে সহযোগিতা করি, কিছু দিন আগে  উদায়ন বাংলাদেশ মোংলা শাখা প্রতিবন্ধীদের কল্যাণে নিরলশ কাজ করে যাচ্ছে। তাদেরকে সমাজের মূল ধারায় ফিরিয়ে আনতে বিভিন্ন পদক্ষেপ হাতে নেওয়া হয়েছে। প্রতিবন্ধীরা যদি সঠিক সহায়তা ও উপকরণ পায় তবে তারাও আমাদের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখতে পারবে। তাই তাদের জীবন মান উন্নয়নে  তাদেরকে  হুইল চেয়ার বিতরণ করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে তাদের জীবন-যাপন আরো সহজ ও সুন্দর হবে । নবাগত জেলা প্রশাসক মামুনুর রশীদ মহোদয়ের মাধ্যমে মোংলার প্রতিবন্ধীদের হুইলচেয়ার বিতরন করা হয়েছে এবং আগামী দিন গুলো সকল প্রজেক্ট গুলো সুন্দর  ভাবে পরিচালনা করার আপ্রাণ চেষ্টা  করবো, মোংলা উপজেলা সকলের সহযোগিতা কামনা করছি ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *