মানবতার ফেরিওয়ালা চেয়ারম্যান বকুল

এম সাঈদ: মহামারী করোনা ভাইরাসের প্রাদূর্ভাবে চারিদিকে মানবতা যখন ভূলুন্ঠিত, সন্তান ফেলে যাচ্ছে তার জন্মদাতা পিতামাতা কে, স্ত্রী দেখছেন না তার স্বামীকে,স্বামী দেখছেন না তার স্ত্রীকে, শেষ বিদায়ের আগের দেখা হচ্ছে না আদরের আপনজন,আত্মীয় স্বজন কারোর সাথে।দেখা হচ্ছে না কারন এটা করোনা ভাইরাস উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে তাই।সবাই ভীতসন্ত্রস্ত, চারিদিকে এক আতংজনক, বেদনাদায়ক পরিবেশ। সারা বাংলাদেশ যখন সাধারণ ছুটির আড়ালে অঘোষিত লগডাউনে স্কুল, কলেজ,বিশ্ববিদ্যালয়, গণপরিবহন, দোকানপাট,ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সব বন্ধ(নিত্যপণ্য ছাড়া)। প্রায় সব মানুষ পড়লো সংকটে।যারা দিন এনে দিন খেতেন, যারা নিম্ন আয়ের মানুষ ছিলো,যারা দোকানের উপর নির্ভরশীল ছিলেন,এমন কর্মহীন মানুষের বাড়িতে চুলা না জ্বলা অবস্থা তখন যশোরের শার্শা উপজেলার ৮নং বাগআঁচড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও বাগআঁচড়া ইউনিয়ন পরিষদের বারবার নির্বাচিত স্বর্ণপদক প্রাপ্ত চেয়ারম্যান আলহাজ্ব ইলিয়াছ কবির বকুল এসব অসহায় মানুষের পাশে আলোকবর্তিকা হয়ে সাহায্যের হাত বাড়ালেন।তিনি উপলব্ধি করলেন ঘরে আটকে পড়া কর্মহীন মানুষের মাঝে আগে তাদের বেঁচে থাকার জন্য খাদ্য পৌছাতে হবে।প্রধমদিকে সরকার থেকে কোন সাহায্যের ঘোষণা তখনো আসেনি তিনি নিজ অর্থায়নে তার ইউনিয়নের মানুষের কাছে পৌঁছাতে লাগলেন খাদ্য সামগ্রী সহায়তা।নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তিনি নিজেই কয়েকজন সেচ্ছাসেবক নিয়ে প্রতিদিন সকাল বিকাল ও রাতে ছুটে চললেন তার ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ডের ১৪টি গ্রামে। অসহায় মানুষের তালিকা তৈরিতে দায়িত্ব দিলেন স্থানীয় মেম্বর,সংরক্ষিত মহিলা মেম্বর, ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি,সাধারণ সম্পাদক, সাংগঠনিক সম্পাদক সহ স্থানীয় পর্যায়ের সকল নেতৃবৃন্দ ও এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গের উপর তিনি দায়িত্ব প্রাপ্ত সবাইকে অনুরোধ করলেন তালিকা তৈরি করতে হবে সবার।কোন অসহায় মানুষ বাদ পড়বে না।এখন কোন দল নেই,কারোর সাথে কারোর শত্রুতা নেই, আমাদের একটাই পরিচয় আমরা সবাই মানুষ।খেলে সবাই খাবে,বাঁচলে সবাই বাচঁবে।কেউ যেন অভুক্ত না থাকে।এরপর তিনি নিজ উদ্যোগে পরিবার প্রতি ১০কেজি চাল,২কেজি আলু,১কেজি মসুরের ডাল,একটি করে ডেটল সাবান পৌঁছে দিতে থাকেন।কখনো তার উপহারের প্যাকেটে চাল,ডাল,আলুর সাথে থাকতো একটি লাউ,১কেজি মিষ্টি কুমড়া, ১কেজি পটল,আধা কেজি কাঁচাঝাল, আধা কেজি পিঁয়াজ, অাধা কেজি ঢেড়শ।সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে অত্যন্ত সুশৃঙ্খল ভাবে তিনি এসব খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করতেন।এভাবে তিনি খাদ্য সামগ্রী পৌছে দিয়েছেন ৩২০০ পরিবারের মাঝে।এছাড়া ৮৫ যশোর-শার্শার সংসদ সদস্য আলহাজ্ব শেখ আফিল উদ্দিন এর থেকে প্রাপ্ত তার ইউনিয়নের জন্য ৫০০ পরিবারের জন্য খাদ্য সামগ্রী দিনের দিন পৌঁছে দিয়েছেন তার ইউনিয়নের মানুষের মাচঝে তাছাড়া এ পর্যন্ত সরকার থেকে প্রাপ্ত ১হাজার ১শ ৫ প্যাকেট খাদ্য সামগ্রী তিনি সরকারের নিয়োগকৃত ট্যাগ অফিসারের কে সাথে নিয়ে বন্টন করেছেন।তিনি বুঝতে পারলেন মধ্যবিত্ত শ্রেনীর মানুষ খাদ্য কষ্টে পড়েছেন তিনি গোপনে তাদের ওয়ার্ড ওয়ারী তালিকা তৈরি করে রাতের আঁধারে তিনি নিজে স্বশরীরে উপস্থিত হয়ে সেই সব মানুষের বাড়িতে খাদ্য সামগ্রী পৌছে দিয়েছেন। এখনো দিচ্ছেন। কখনো দিনে কখনো রাতের আঁধারে তিনি ক্লান্তহীন ভাবে মানব সেবাই নিজেকে নিয়োজিত করেছেন।এই এলাকার মানুষের মাঝে তিনি হয়ে উঠেছেন মানবতার ফেরিওয়ালা চেয়ারম্যান বকুল। প্রথমদিকে মসজিদে নামাজ আদায়ে বিধিনিষেধ ছিলো না কিন্তু বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানালো মসজিদ থেকে করোনা ভাইরাসের জীবানু বেশী সংক্রমিত হচ্ছে । তখন তিনি তার ইউনিয়নের মসজিদ গুলোর জন্য ২৮টি স্প্রে মেশিন ও ২ড্রাম(১০০কেজি)ব্লিসিং পাওডার,১৫০০ ডেটল সাবান মসজিদের সভাপতি,সেক্রেটারি সহ ইমাম,মোয়াজ্জিনের হাতে তুলে দিলেন, এবং লোক মাধ্যমে মসজিদের ফ্লোর কে নিয়মিত জীবানু মুক্ত করতে নির্দেশ দিলেন।তিনি আরো বিতরন করলেন১০০০প্যাকেট টিস্যু পেপার (চলমান),৪০০বোতল হ্যান্ড স্যানিটাইজার,৫০০ মাস্ক।করোনা বিপর্যয়ে কাজ করা তার সহ যোদ্ধাদের মাঝে বিতরণ করলেন ১০০পিপিই।তার এলাকায় হোম কোয়ান্টাইনে থাকা অর্ধশতাধিক পরিবারের প্রতিদিন চাল,ডাল,তেল, আলু,লবন, বাজার সদয়,ফলমুল,তরিতরকারি তিনি লোক মাধ্যমে গোপনে পাঠিয়ে দিয়েছেন যা এখনো চলমান রয়েছে।তিনি যশোরের অন্যতম বৃহৎ বানিজ্যিক কেন্দ্র বাগআঁচড়া বাজার পরিচালনা কমিটির সভাপতি হিসাবে সমগ্র বাজার এলাকা কে মাইকিংয়ের আওতায় এনেছেন।কিছু সময় পরপর তিনি নিজেই মাইকিং করে সবাইকে সতর্ক করছেন,সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা সহ বারবার সাবান দিয়ে হাত ধোয়া সহ নানাবিধ নির্দেশনা প্রদান করেছেন(চলমান)।এভাবেই দানবীর মানবতার ফেরিওয়ালা ছুটে চলছেন তার লক্ষ্যে।তার যোগ্য সহধর্মিণী আলহাজ্ব সানজিনা ইয়াসমিন শিলাও এই মানব সেবাই তার স্বামীর পাশে থেকেছেন।তিনিও কখনো প্রকাশ্যে কখোনাগোপনে বাড়ি থেকে বহু মানুষকে খাদ্য সামগ্রী সহ নানাবিধ সাহায্য দিয়ে চলেছেন……

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *