শিরোনাম

ভূরুঙ্গামারীতে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুলিশ-শ্রমিক সংঘর্ষ, আহত ২৫

Spread the love

ভুরুঙ্গামারী(কুড়িগ্রাম)প্রতিনিধি ঃ কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুলিশের সাথে মটর শ্রমিকদের সংঘর্ষের ঘটনায় অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছে। রোববার সন্ধ্যায় ৭.৩০মিনিটে ভূরুঙ্গামারী কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে এই ঘটনা ঘটে। স্থনীয় ও প্রত্যক্ষ দর্শী সূত্রে জানাগেছে- ভূরুঙ্গামারী থানার এ এসআই আমিনুলের নেতৃত্বে একদল পুলিশ সিভিল পোষাকে এক জন আসামি ধরে নিয়ে আসার সময় ভূরুঙ্গামারী সাব টার্মিনালে জ্যামের মধ্যে পড়ে। পুলিশের গাড়ির সামনে দারিয়ে থাকা সদর ইউনিয়নের ছাত্রলীগের সহ সভাপতি আরিফের কাছে সাইট চাইলে জ্যামের কারণে আরিফ অপরাগতা প্রকাশ করলে একজন পুলিশ কনেস্টেবল তেড়ে এসে আরিফের নাকে ঘুশি মারলে আরিফ মটর সাইকেল থেকে পড়ে যায়। এতে আরিফের নাক ফেটে রক্ত বের হলে স্থানীয় জনতা প্রতিবাদ জানালে সাধারণ পোষাকের পুলিশ সদস্যদের সাথে বাগ বিতন্ডতাশুরু হয়। এ সময় উপজেলা শ্রমিক লীগের সভাপতি ও মটর শ্রমিক ইউনিয়নের (৩১৪) এর সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান মিজান বিষয়টি মিমাংসার চেষ্টা করলে পুলিশ মিজানের সাথে খারাপ আচরণ করে। এতে অন্যান্য শ্রমিক নেতাসহ স্থানীয় জনতা ক্ষীপ্ত হয়ে সাধারণ পোষাকের পুলিশ সদস্যদের অবরুদ্ধ করে রাখে। পরে পুলিশ অবরুদ্ধ হওয়ার খবর পেয়ে ভূরুঙ্গামারী থানা থেকে ১৪/১৫ জন পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছলে মটর শ্রমিক ও স্থানীয় লোকদের সাথে সংঘর্ষ বাধে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ রাবার বুলেট ছোরে ও নিরবিচারে লাঠিচার্জ করে। থেমে থেমে প্রায় ঘন্টা ব্যাপি এই সংঘর্ষ চলে। পরে শ্রমিকরা উত্তেজিত হয়ে ভূরুঙ্গামারী-ঢাকা মহাসড়ক অবরোধ করে ঢাকাগামী কোচ সহ সকল ধরণের যানবাহন বন্ধ করে দেয়। এঘটনায় ঢাকাগামী যাত্রী,পথচারী ও মটর শ্রমিক সহ অন্তত ২৫ জন আহত হয়। আহতেদের ভূরুঙ্গামারী সদর হাসপাতাল সহ বিভিন্ন ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে। যার মধ্যে গুরুত্বর অবস্থায় নয়জনকে ভূরুঙ্গামারী সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পঃপঃ কর্মকর্তা ডাঃ এএসএম সায়েম জানান নয়জনের অবস্থা গুরুত্বর হওয়ায় তাদের কে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে। আর কয়েকজনকে প্রথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। আহতরা হলেন আমির আলী (৬০) মানিক মিয়া(২৮) আঃ কাদের(৬০) বাবু(২৯) সুশান্ত(২১) আঃ রহমান (৫০) প্রমুখ। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে উপজেলা শ্রমিক লীগের সভাপতি মিজানুর রহমান জানান পুলিশ আমার সাথে খারাপ আচরণ করলে মটর শ্রমিক ও স্থানীয় জনতা এর প্রতিবাদ করে। কিন্তু পুলিশ সমপূর্ণ বিনা উস্কানিতে বল প্রয়োগ করে হামলা চালায়। পরে খবর পেয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান নূরুন্নবী চৌধুরী খোকন ও ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি রেজাওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ঘটনা স্থলে ছুটে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করেন। ভূরুঙ্গামারী থানার ওসি ইমতিয়াজ কবির ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন শ্রমিকদের সাথে সংঘটিত ঘটনার বিষয়টি উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। আর গুলি বা রাবার বুলেট ছোড়ার ঘটনা ঘটেনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *