নড়াইলে বিধবাকে বিবাহের ঘটনায় কওমী মাদ্রাসার হুজুর পলাতক

উজ্জ্বল রায় (নড়াইল জেলা) প্রতিনিধিঃ নড়াইলের লোহাগড়ায় কওমী মাদ্রাসার মাহতামিম কর্তৃক বিধবা নারীকে ২য় বিবাহের ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে চাঞ্চল্য ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে এলাকাবাসীর সমন্বয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে। এলাকাবাসী ও পুলিশ সুত্রে জানাগেছে, নড়াইলের লোহাগড়া পৌরসভার রাজুপুর গ্রামের আল-জামেয়াতুল ইসলামীয়া ও এতিমখানা কওমী মাদ্রাসার মাহতামিম হিসেবে পাশ্ববর্তী জেলা গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার ধানকোড়া গ্রামের মাওঃ আকবার খান প্রায় ৩০ বছর যাবত চাকুরী করে আসছেন। চাকুরী করার সুবাদে মাহতামিম ৫ সন্তান ও স্ত্রীকে নিয়ে মাদ্রাসার পার্শ্বে বসবাস করতেন। প্রায় ৭ বছর পুর্বে মাদ্রসার পার্শ্বে এক বিধবা নারীর সাথে উক্ত মাদ্রাসার মাহতামিম  সাহেবের প্রেমজ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এ ঘটনা গত ৩ মে জানাজানি হলে গ্রামবাসীরা মাদ্রাসায় এসে মাহতামিম আকবার খানকে জিঞ্জাসাবাদ করেন। এক পর্যায়ে গ্রামের কিছু যুবক মাহতামিমের ওপর চড়াও হলে মাহতামিম ওই বিধবা নারীকে ২ বছর পুর্বে শরিয়ত মোতাবেক বিবাহ করেছেন বলে স্বীকারোক্তি করেন। এক পর্যায়ে মাদ্রাসার মাহতামিম আকবার খান ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।
মাদ্রাসার সভাপতি গাজী ওবায়দুর মজিদ বলেন, এটা মাদ্রাসার কোন সমস্যা নয় এটা হুজুরের ব্যাক্তিগত বিষয়। আমাদের নিকট তিনি উক্ত বিধবা নারীকে বিবাহ করার কথা বলেছেন। এ বিষয়ে পরে কমিটির সদস্যদের নিয়ে সিদ্ধান্ত নিব হুজুরকে মাদ্রাসার চাকুরীতে রাখব কিনা।
এ বিষয়ে গ্রামের সাবেক কমিশনার জিল্লুর রহমান বলেন, আমাদের সামনে বিধবা নারী হুজুরের সাথে তার বিবাহ হয়েছে বলে জানিয়েছে। আমরা চাই হুজুর ওই বিধবা নারীকে নিয়ে ঘর সংসার করুক। তবে হুজুর পলাতক আছে। নড়াইলের লোহাগড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সৈয়দ আশিকুর রহমান বলেন, খবর শুনে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। তবে মাদ্রাসার নির্বাহী কমিটি বসে সৃষ্ট ঘটনার মিমাংসা করবে বলে আমাদের আশ্বস্ত করেছে । এলাকা এখন শান্ত রয়েছে।
মতামত দিন

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More