তোফা-তহুরার বাড়িতে বিদ্যুৎ সংযোগ

সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি: দেশব্যাপী আলোচিত কোমরে জোড়া লাগানো থেকে আলাদা করা জমজ দু’বোন তোফা-তহুরার বাড়িতে বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়া হয়েছে। সোমবার সন্ধ্যায় তোফা-তহুরার লালন পালনের ঠিকানা গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার রামজীবন ইউনিয়নের কাশদহ গ্রামের নানার বাড়ীতে বিদ্যুৎ সংযোগ প্রদান করা হয়। বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব:)মঈন উদ্দিন মুটো ফোনে ভয়েস কনফারেন্সে যুক্ত হয়ে বিদ্যুতায়নের উদ্বোধন করেন। তোফা-তহুরার হাতের ছোঁয়ায় সুইচ অন করে বৈদ্যুতিক বাল্ব জালানো হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার এসএম গোলাম কিবরিয়া, রংপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার নূরুল রহমান, সুন্দরগঞ্জ জোনাল অফিসের জেনারেল ম্যানেজার প্রকৌশলী সোলায়মান হোসেন, ওসি আতিয়ার রহমান, ইউপি চেয়ারম্যান খন্দকার মিজানুর রহমান প্রমুখ। তোফা-তহুরার কারনে ওই এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ চালু হওয়ায় এলাকাবাসী খুশি

সর্বশেষ ঢাকায় টানা সাড়ে চার মাস চিকিৎসা শেষে গত ২৪ ফেব্রুয়ারি রাতে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার রামজীবন ইউনিয়নের কাশদহ গ্রামের নানার বাড়ীতে ফিরেছে তোফা-তহুরা। কিন্তু বাড়িতে বিদ্যুৎ না থাকা কারনে গরমে দু’বোন প্রতিনিয়ত অসুস্থ্য হয়ে পড়ছিল।

প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ নির্দেশনায় ২০১৭ সালের ১২ সেপ্টেম্বর তোফা-তহুরাকে দেখতে এসে গাইবান্ধা জেলা প্রশাসক গৌতম চন্দ্র পাল ও সুন্দরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার এসএম গোলাম কিবরিয়া বিদ্যুৎ বিভাগকে তোফা-তহুরার বাড়িতে দ্রুত বিদ্যুতের সংযোগ প্রদানের আদেশ দেন। ওই সময় ইউএনও গরমের কষ্ট থেকে রেহাই পেতে তাদের বাড়ীতে ৫০ ওয়াটের একটি সৌরবিদ্যুৎ লাগিয়ে দেয়।

বাড়ীতে ফিরলেও নিয়মিত তোফা-তহুরার খোঁজ-খবর নিচ্ছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের শিশু সার্জারি বিভাগের অধ্যাপক ডা. সাহনূর ইসলাম। তাদের দু’জনকে ভালো রাখতে সবসময় মুঠোফোনে মা শাহিদা বেগমকে পরামর্শ দিচ্ছেন তিনি।

মা শাহিদা বেগম বলেন, চিকিৎসকরা বলেছেন তোফা-তহুরার যেন কোন অযতœ না হয়। সবসময় যেন ভালো থাকে, সেভাবে রাখতে হবে। কিন্তু বাড়ীতে ফেরার পর ওরা দ’ুবোন গরমে খুব কষ্ট পাচ্ছিল।

তোফা-তহুরার চিকিৎসক ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের শিশু সার্জারি বিভাগের অধ্যাপক ডা. সাহনূর ইসলাম জানান তোফা-তহুরা এখন ভালো আছে। তহুরার প্র¯্রাবের ইনফেকশন ছিল। তাকে চিকিৎসা দেওয়া আছে। এই মুহুর্তে নিয়ন্ত্রণে আছে। এ ছাড়া তাদের দ’ুজনকে ডেভেলপমেন্টাল থেরাপির জন্য সাভার সিআরপিতে (পক্ষাঘাতগ্রস্তদের পুনর্বাসন কেন্দ্রে) পাঠানো হয়েছিল। সেখানে চিকিৎসা শেষে তাদেরকে বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, এখন তাদের ওজন সাত কেজি করে রয়েছে। ওজন ১০ কেজি হওয়ার পরে তাদের আবারো অপারেশন করা হবে। এখন থেকে প্রতিমাসে চেকআপের জন্য তাদেরকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে একবার আসতে হবে। এর আগেই যদি অসুস্থ্য হয়, তখন আগে আসবে।

দেশব্যাপী আলোচিত এই জমজ শিশু তোফা-তহুরার এমন অপারেশন দেশে এই প্রথম। তাই যে কোন উপায়ে তাদের দু’জনকে সুস্থ্য রাখা চিকিৎসকদের জন্যও এক ধরনের চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

২০১৬ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর কোমরে জোড়া লাগানো অবস্থায় গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার রামজীবন ইউনিয়নের কাশদহ গ্রামে নানার বাড়িতে তোফা ও তহুরার জন্ম হয়। মিড়িয়ায় বিষয়টি আলোচিত হলে প্রধান মন্ত্রীর নির্দেশনায় তাদেরকে ৭ অক্টোবর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরপর ১৬ অক্টোবর তাদের প্রথম অস্ত্রোপচার করা হয়।

২০১৭ সালের ১ আগষ্ট তাদেরকে আলাদা করার জন্য করা হয় দ্বিতীয় অস্ত্রোপচার। পরে সুস্থ হলে সে বছরেরই ১০ সেপ্টেম্বর রাতে ঢাকা থেকে গাইবান্ধায় ফেরে তোফা-তহুরা। আবারও তহুরা অসুস্থ্য হলে ২০১৭ সালের ৮ অক্টোবর তহুরাকে ঢাকায় নেওয়া হলে সাড়ে চার মাস চিকিৎসা শেষে গত ২৪ ফেব্রুয়ারি বাড়ীতে ফেরে জমজ দু’বোন তোফা-তহুরা।

মতামত দিন

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More