গাইবান্ধায় ভারী শীলাবৃষ্টিতে শীলের আঘাতে আহত প্রায় অর্ধশতাধিক নারী পুরুষ

গাইবান্ধা প্রতিনিধি: গাইবান্ধার পলাশবাড়ী,সাদুল্যাপুর ও গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার আজ ৩০ মার্চ ২০১৮ শুক্রবারের দুপুর ১টায় শুরু হওয়া ভারী শিলাবৃষ্টিতে আহত অর্ধশতাধিক মানুষ।সেই সাথে ঘরবাড়ী, ধান ও আমের ব্যাপক ক্ষতি।

আজকে গাইবান্ধার তিন উপজেলা ও আশেপাশের এলাকা দিয়ে ব্যাপক শীলাবৃষ্টি ও ঝড় বয়ে যায়।
এ ঝড় ও শিলাবৃষ্টি বেশিক্ষণ স্থায়ী না হলেও স্বল্প সময়ে শীলের আঘাতে প্রায় অর্ধ শতাধিক লোক আহত হয়েছে।

গাইবান্ধার জেলা ও উপজেলা শহরের হাসপাতাল ও ঔষধ ফার্মেসীতে শীলের আঘাতে আহত হয়ে চিকিৎসা নিতে আসতে দেখা যায় অসংখ্য পুরুষ ও মহিলা।ধারণা করা হচ্ছে আজকের শীলা বৃষ্টিতে প্রায় জেলার অর্ধ শতাধিক লোক আহত হয়েছে।

এ আহতদের সংখ্যা পলাশবাড়ী উপজেলাতে বেশী হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে কারণ পলাশবাড়ী উপজেলার ঔষধ ফার্মেসীগুলোতে আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা নিতে ভীড় জমতে দেখা যায়।

এছাড়া পলাশবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এর আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা: তনয় চন্দ্র জানায় শীলা বৃষ্টি আহত ৬ জনের চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।
তারা হলেন পুর্বগোপিনাথপুর গ্রামের রেনু বেগম (৩০),জালাগাড়ী গ্রামের মাসুমা (৪২), পুর্ব গোপালপুর গ্রামের শিরিনা (৪০),নিজ কাবিলপুর গ্রামের মারিয়া (২৫),পুর্বফরিদপুর গ্রামের আমেনা( ৫০)।আহতরা দু-তিনদিন ঔষুধ খেলে ঠিক হয়ে যাবে। আর দূরত্বের কারনে হয়তো অনেকেই আসতে পারেনি। তারা হয়তো স্থানীয় চিকিৎসকদের সহায়তা নিয়েছে।

পলাশবাড়ী উপজেলার আহত আসমা বেগমের ছেলে রাকিবের সাথে কথা বলে জানা যায় তার মা আজ দুপুরের আগে গরু নিয়ে মাঠে গিয়েছিল হঠাৎ শীলাবৃষ্টি শুরু হলে বাড়ীর উদ্দ্যেশ্যে দৌড় দেয় দূর্ভাগ্য বাড়ীতে পৌছার আগেই বেশ কয়েকটি শীল মাথায় পড়লে মাথায় যখম হয়।
এ থেকে ধারণা করা হচ্ছে যারা শীলাবৃষ্টির সময় কোন কাজে বাড়ীর বাহিরে ছিল তারাই আহত হয়েছে।

এছাড়া মানুষ আহতের পাশাপাশি ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়েছে ঘরবাড়ী ও গামর হওয়া ধান,ভুট্টো ও আম গাছের।

এই এলাকায় বৃষ্টির চেয়ে শিলাবৃষ্টি বেশি হওয়ায় আমবাগানের ও আম গাছের আমের ছোট গুটি ঝড়ে গিয়ে আম চাষীদের ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়েছে।

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার দরবস্ত ইউনিয়নের আম চাষী ও নার্সারী ব্যবসায়ী মোজাফ্ফর জানান আমি প্রতি বছর ধরন্তআমসহ কলম গাছ বেশী মূল্যে বিক্রি করি।এবার সেটা আর হবেনা কারণ এবারের আজকের অগ্রীম শীলা বৃষ্টিতে আমার কলম কাটা আম গাছের সকল গুটি ঝড়ে গেছে।

তবে গাইবান্ধার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কৃষিবীদরা পরামর্শ দিয়েছেন–
শিলা বৃষ্টি বা ঝড়ের পর ইউরিয়া উপরিপ্রয়োগ করা যাবেনা। ১৬ লিটার পানিতে ১০০ গ্রাম এমওপি (পটাশ সার / সলু পটাশ) মিশিয়ে স্প্রে /৮ শতাংশ ধানের জমি এবং এমিস্টার টপ / ব্লাস্টিন / সানফাইটার / নাটিভো অনুমোদিত মাত্রায় স্প্রে করতে হবে। তা না হলে ব্যাকটেরিয়াল লিফ ব্লাইট হতে পারে।

মতামত দিন

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More