গাইবান্ধায় পানচাষী ব্যাপক ক্ষতির মুখেঃ অতিকষ্টে দিনাপত

গাইবান্ধা সদর প্রতিনিধিঃ
গাইবান্ধা সদর উপজেলাধীন লক্ষীপুর ইউপির পানচাষীদের  মাথায় হাত। দিনরাত পরিশ্রম,  অর্থভাণ্ডার শুন্যের কোঠায় প্রায়। পানচাষ একটি অন্যতম অর্থকরী ফসল। দীর্ঘ দিন ধরে পান চাষে এই লাকার কৃষকরা লাভবান হলেও এবার টানা শৈত্যপ্রবাহ তীব্র শীত ও ঘন কুয়াশা  চরম বিপর্যের বিপন্ন ক্ষতির মুখে পান চাষীরা।
পান চাষে গত বছরের ক্ষতি কাটিয়ে উঠার আশায় এ বছরও পান চাষ করেন চাষিরা। তবে তাদের সে আশায় গুড়েবালি। অত্র ইউপির গোবিন্দপুর, দাসপাড়া, মাঝিপাড়া সহ বিভিন্নস্থানে প্রায় ৫০০ অধীক বরজ আছে।
গ্রামের চাষিরা বলেন  বাপ-দাদার আমল থেকে পান চাষ করে আসছেন। অর্ধশত বছরের পুরাতন পানের বরজ এ গ্রামে ঐতিহ্য বহন করছে। পানচাষী আঃ হামিদ (৪৫) বলেন যে আমি মোট ২ বিঘা পান চাষ করি। বাৎসরিক সংস্কারে প্রায় ব্যায় হয় ১,৫০,০০০৳ পূর্বে আমার বরজ থেকে উঠতো ১৩০-১৫০ বিরা, বর্তমানে পান উত্তোলন হয় মাত্র ৩০-৪০ বিরা।
আমরা লাভের আশায় পান চাষ করি। আগে প্রতি সপ্তাহে এলাকা  পান বিভিন্ন জেলায় রফতানি হতো। প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারনে ক্ষতির সম্মুখীন আমরা। আমাদের এলাকার  ৯৮ ভাগ বরজের  অবস্থা এবছরও খরচ উঠবে না। মাঝিপাড়া গ্রামের পান চাষি জয়নাল জানান, পান ১২ মাসী ফসল। বৈশাখ-জৈষ্ঠ্য মাসে পান চাষের জন্য জমিতে পিলে তৈরি করতে হয়। আষাঢ়, শ্রাবণ ও ভাদ্র মাসে পরিচর্যা করতে হয়। জমিতে জৈব সার খৈল-মাটি দিতে হয়। ১২ মাসী ফসল পান তাই ১২ মাসই পরিচর্যা করতে হয়।  একবার পান চাষ করতে বর্তমান বাজার দরে ১ লক্ষ  টাকা খরচ হয়। বছরের পর বছর চলে ওই বরজ। প্রতিবছর পানে জৈব সার খৈল-মাটি দিতে ও পরিচর্যা করতে প্রায় ৯০ হাজার টাকা খরচ হয়। ফলন ভাল হলে প্রতি বিঘা জমি থেকে বছরে ৮০ হাজার থেকে এক লাখ টাকা পর্যন্ত লাভ হয়। আমাদেরকে সরকারি – বেসরকারি ভাবে কেউ সহায়তা প্রদান করনি।  যদি স্বল্প সুদে ঋন প্রদান করতো তাহলে আমাদের এ চাষাবাদ বৃহদাকৃতি এ ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব।
মতামত দিন

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More