কুড়িগ্রামে ধরলা ও ব্রহ্মপুত্রের পানি বিপদ সীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত বাঁধ ভেঙে ২০ গ্রাম প্লাবিত

রুহুল আমীন রুকু, স্টাফ রিপোর্টার: গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে কুড়িগ্রামের সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি হয়েছে। সোমবার (১৩ জুলাই) বিকালে ধরলার পানি বিপৎসীমার ৯৪ সেন্টিমিটার, ব্রহ্মপুত্রের পানি বিপৎসীমার ৬২ সেন্টিমিটার ও তিস্তার পানি ১৫ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। জেলার ৯টি উপজেলার ৫৬টি ইউনিয়নের ৫ শতাধিক গ্রামের প্রায় দুই লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

এদিকে ধরলা নদীর পানির প্রবল চাপে সদর উপজেলার সারডোবে একটি বিকল্প বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ভেঙে ২০টি গ্রাম নতুন করে প্লাবিত হয়েছে। সারডোব গ্রামের স্থানীয় বাসিন্দা জহুর উদ্দিন জানান, সকাল ৮টার দিকে বাঁধটি ভেঙে পানি প্রবল বেগে ধেয়ে আসে। একে একে ৫টি বাড়ি বিধস্ত হয়। অনেক মালামাল ভেসে যায়। তীব্র ¯্রােতের কারণে নৌকা নিয়ে সেখানে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। হলোখানা ইউপি সদস্য মোক্তার হোসেন জানান, বাঁধটি ভাঙার ফলে হলোখানা, ভাঙামোড়, কাশিপুর, বড়ভিটা ও নেওয়াশি ইউনিয়নের ২০টি গ্রাম একে একে প্লাবিত হচ্ছে। হাজার হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে গবাদীপশু নিয়ে দুর্ভোগে রয়েছেন। মানুষজনকে সরিয়ে নিয়ে নৌকা পাওয়া যাচ্ছেনা। বাঁধের এই রাস্তাটি দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ ফুলবাড়ী উপজেলা সদর ও কুড়িগ্রাম জেলা সদরে যাতায়াত করতো। যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েছেন হাজারো মানুষ। কুড়িগ্রাম সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: ময়নুল ইসলাম জানান, পানিবন্দী মানুষকে উদ্ধারের জন্য সেখানে দু’টি নৌকার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

এদিকে উলিপুর উপজেলার বেগমগঞ্জ ইউনিয়ন পুরোপুরি প্লাবিত হয়েছে। আকেল মামুদ মিয়াজীপাড়া গ্রামের গুচ্ছগ্রাম সংলগ্ন মরাখাল প্রচন্ড ¯্রােতে ভাঙ্গন দেখা দেওয়ায় মোহাম্মদ আলী মুন্সি, আঃ কুদ্দুছ, ছামেদ আলীর বাড়ি ঘর অন্যত্র সড়িয়ে নেন। একই গ্রামের গুচ্ছগ্রামে আশ্রয় নেয়া আবু বক্কর, রহিম আলী, সাখাওয়াত হোসেন জানান, পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় গুচ্ছা গ্রামে আশ্রয় নিয়েছি। প্রথম দফা ও দ্বিতীয় দফায় বন্যা হলেও সরকারি বা বেসরকারি ভাবে কোন ত্রান সামগ্রি পাইনি। ফলে খেয়ে না খেয়ে দিন পাড় করতে হচ্ছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিগণ কোন খোঁজ খবর নেননি। ইউপি চেয়ারম্যান বেলাল হোসেনের সাথে মুঠোফোনে একাধিকার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো: আরিফুল ইসলাম জানান, বাঁধটি অনেক আগেই পরিত্যক্ত হয়েছে। তবে বিকল্প বাঁধটি রক্ষার জন্য বালুর বস্তা ফেলা হচ্ছিল। কিন্তু পানির প্রবল চাপে শেষ পর্যন্ত বাঁধটি ভেঙে যায়।

জেলা প্রশাসক মো: রেজাউল করিম জানিয়েছেন, পানিবন্দী মানুষকে উদ্ধারে প্রয়োজনীয় নৌকার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়া জেলায় ৪৩৮টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তত রাখা হয়েছে। ৪০০ মে. টন চাল, ১১ লাখ টাকা ও ৩ হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার উপজেলা পর্যায়ে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

মতামত দিন

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More