কুড়িগ্রামে মুখে মাস্ক না  থাকায়  রিক্সচালকের মাথা ফাটালো  

রুহুল আমিন রুকু, স্টাফ রিপোর্টারঃ
মুখে মাস্ক না পড়ে হাসপাতালের ঢোকার চেষ্টা করাকে কেন্দ্র করে এক রিকসা চালকের মাথা ফাটিয়ে দিলেন কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দায়িত্বরত পরিচ্ছন্নতাকর্মী। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ফুলবাড়ী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মুল গেট বন্ধ করে দিয়েছেন ভুক্তভোগির স্বজন ও বিক্ষুব্ধ জনতা। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে উত্তেজিত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রন করে মুল গেট খুলে দিয়েছে। এতে বিরম্বনার শিকার হন করোনার ভ্যাকসিন নিতে আসা নারী ও পুরুষরা।
ভুক্তভোগির স্বজন জায়দুল রহমান জানান, বুধবার সকাল ১১টার দিকে করোনার ভ্যাকসিন নেয়ার জন্য রিকসা ভাড়া করে হালিমা নামের এক যাত্রী রিকসায় উঠেন। রিকসা চালক সাহানুর রহমান ওই যাত্রীকে নিয়ে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের গেটে পৌঁছিলে দায়িত্বরত পরিচ্ছন্নতাকর্মী অঞ্জন চন্দ্র দাস মুখে মাস্ক দিয়ে প্রবেশ করা জন্য বলে। কিন্তু রিকসা চালকের মুখে মাস্ক না থাকায় দ্রæত যাত্রীকে নামিয়ে দিয়ে ফেরার জন্য আবেদন করেন। এক পর্যায় উভয়ের মধ্যে কথাকাটকাটি হয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে সাহানুরকে গাছের ডাল দিয়ে সজোড়ে এলোপাতাড়ী আঘাত করেন অঞ্জন চন্দ্র । এতে মাথা ফেটে যায় রিকসা চালকের। রক্তাত্ত অবস্থায় সাহানুর মাটিতে লুঠিয়ে পড়ে। এ দৃশ্য স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসা লোকজন দেখতে পেয়ে তাকে উদ্ধার করে ফুলবাড়ী হাসপাতালে ভর্তি করায়। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে গুরুতর আহতের স্বজনরা জড়ো হয়ে হাসপাতাল গেটে অবস্থান নেন। পরিচ্ছন্নতাকর্মী অঞ্জন চন্দ্র দাসের শাস্তি চেয়ে মুল গেট বন্ধ করে দিয়ে ভীড় জমায় আহতের স্বজনসহ চিকিৎসা নিতে আসার নারী ও পুরুষরা। এ সময় পরিচ্ছন্নতাকর্মী অঞ্জন চন্দ্র দাস ভয়ে আত¦গোপন করেন।  আহত রিকসা চালকের বাড়ী ফুলবাড়ী উপজেলার কবির মামুদ গ্রামে। সে ওই গ্রামের  মৃত আকবর আলী ছেলে।
আহতের মা আম্বিয়া বেওয়া জানান, আমরা গরীব মানুষ। দিন আনি দিন খাই। তাতে ছেলেটার মাথা ফাটিয়ে দিয়েছে। ১০/১২টা সেলাই হয়েছে। আমি এ ঘটনার বিচার চাই।
এ ব্যাপারে ফুলবাড়ী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার তাসলিমা নাসরিন জানান, মুখে মাস্ক পড়া না পড়াকে কেন্দ্র করে হাসপাতাল গেটে মারামারি হয়েছে। রিকসা চালক সাহানুর রহমানকে ভর্তি করা হয়েছে। তার মাথা ফেটে গেছে। সেলাই দেয়া হয়েছে ৮টি। সে বমিও করেছেন। এ জন্য উন্নত চিকিৎসার জন্য রোগীকে ছারপত্র দেয়া হয়েছে

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More