ঢাকাSaturday , 7 October 2023
  • অন্যান্য
  1. আন্তর্জাতিক
  2. করোনা আপডেট
  3. খেলাধুলা
  4. জাতীয়
  5. জেলার খবর
  6. দেশজুড়ে
  7. নির্বাচনের হাওয়া
  8. প্রচ্ছদ
  9. প্রচ্ছদ
  10. ফিচার
  11. বিনোদন
  12. রাজনীতি
  13. শিক্ষা
  14. সকল বিভাগ
  15. স্বাস্থ্যর খবর
আজকের সর্বশেষ সবখবর

কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় সুন্দরগঞ্জে ভেস্তে যেতে পারে সমবায়ের মূল লক্ষ্য

Link Copied!

 

জাহিদ হাসান জীবন, সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি:

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে ভূমিহীন অসহায় দরিদ্র মানুষের আশ্রয়ের জন্য সরকারি উদ্যোগে গড়ে তোলা হয়েছে বিভিন্ন আশ্রয়ন কেন্দ্র। যেখানে মাথা গোঁজার ঠাঁই পেয়েছেন অনেক দরিদ্র মানুষ। সমবায় কার্যালয়ের অধীনে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে নেওয়া হয়েছিল দারিদ্র্য বিমোচনের উদ্যোগ। সদস্যদের স্বাবলম্বী করতে দেওয়া হয়েছিল ঋণ। কিন্তু সমবায় কার্যালয়ের উদাসীনতায় বিতরণকৃত ঋণ আড়াই বছরে আদায় হয়েছে মাত্র ৭ হাজার ৫২০ টাকা। আবার, আশ্রয়নে বাস না করাদের ঋণ প্রদান করায় দেখা দিয়েছে সমবায়ের মূল উদ্দেশ্য ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা।
জানা গেছে, উপজেলা সমবায় কার্যালয় কর্তৃক ভাটিকাপাসিয়া আশ্রয়ন-২ সমবায় সমিতি লি: নামক সংগঠনটি গঠন করা হয় ২০১৭ সালে। সমবায়ের লক্ষ্য অনুযায়ী সমিতির সদস্যদের স্বাবলম্বী করতে ওই বছরের জুলাইয়ে উপজেলা সমবায় কার্যালয় কর্তৃক দেওয়া হয় ঋণ। ৩৫৬ জন সদস্যের প্রত্যেককে ১০ হাজার করে মোট দেওয়া হয় ৩৫ লাখ ৬০ হাজার টাকা। কালেকশন ডেটে সদস্য প্রতি ঋণ আদায়ের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২১৪ টাকা হিসেবে মোট ৭৫ হাজার ৯৭০ টাকা। কিন্তু কালেকশন শীট বলছে, ঋণ বিতরণ থেকে নদী গর্ভে বিলীন হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত দীর্ঘ আড়াই বছরে মোট আদায়ের পরিমান ৭ হাজার ৫২০ টাকা। যা প্রদত্ত ঋণের শূন্য দশমিক ২১ শতাংশ মাত্র।
উপজেলা সমবায় কার্যালয় কর্তৃক দেখানো রিপোর্ট বলছে, আশ্রয়নটি নদী গর্ভে বিলীন হয়েছে ২০২০ সালের গোড়ার দিকে। ঋণদান থেকে বিলীন হওয়া পর্যন্ত মোট ৩০ মাসে আসলের মাত্র ৭ হাজার ২৮ টাকা এবং সার্ভিসচার্জ ৪৯২ টাকা। ঋণ আদায়ের ব্যর্থতার এই বিষয়টিকে পুঁজি করে চাতুরীর আশ্রয় নেওয়া হয়েছে কাপাসিয়া ইউনিয়নের ভাটি বোচাগাড়ী আশ্রয়ন- ২ নামক আরেকটি সমবায় সমিতিতে। ঋণ নিলে ভাটিকাপাসিয়া আশ্রয়ন-২ সমবায় সমিতির মতো আর কোনো কিস্তিই দিতে হবে না, এমনটিই বুঝানো হয়েছে ভাটি বোচাগাড়ী আশ্রয়ন-২ সমবায় সমিতির ঋণ গ্রহনকারী সদস্যদের মাঝে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, তিস্তার তান্ডবে ২০২১ সালে অর্ধেক ভেঙে যাওয়া ওই আশ্রয়নের অবশিষ্ট ঘরগুলোতে ৬০টি পরিবারের বসবাসের কথা থাকলেও সেখানে বাস করে মাত্র ৬ টি পরিবার। বাকীরা থাকে নদীর আরেক পাড়ে নিজস্ব বসতভিটায়। উপজেলা সমবায়ের অধীনে ভুতুড়ে এ আশ্রয়নেই সমবায় সমিতি গঠন করে এর আগে (প্রতিটি পরিবারের স্বামী, স্ত্রী বা নমিনী মিলে) ১২০ জনের মধ্যে ৮৫ জনকে দেওয়া হয়েছে (জনপ্রতি) ১৫ হাজার করে মোট ১২ লাখ ৭৫ হাজার টাকা ঋণ।
আর ঋণ তোলার পর হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে প্রতিটি পরিবারের নিকট থেকে ঋণের এক তৃতীয়াংশ টাকা। ঋণ প্রদানের দুই মাস অতিবাহিত হলেও গত বুধবার পর্যন্ত কোনো কিস্তি না নেওয়ায় বেশ উৎফুল্ল মনে হয়েছে সদস্যদের।
আশ্রয়নে অস্থায়ীভাবে বাস করছেন পরিবারসহ এক নারী। তিনি বলেন, যারা লোন পেয়েছে তাদের কাছে থেকে শুনেছি ৩০ হাজার টাকার মধ্যে ১০ হাজার টাকা করে দিয়েছে সবাই।
কাজ থেকে ফিরে বিকেলে বারান্দায় বসে কোনো আমিষ ছাড়াই শুধু কচুর তরকারি দিয়ে ভাত খাচ্ছিলেন এক ঋণী। যিনি অন্যদিন টাকা দেওয়ার কথা অস্বীকার করেছিলেন। আপনি খাচ্ছেন মাছ ছাড়া আর আপনার ঋণের টাকা নিয়ে ইলিশ খাচ্ছেন অন্যরা। কিন্তু কিস্তি তো পরিশোধ করতে হবে আপনাকেই? এমন কথা বলতেই তিনি বললেন, আশ্রয়নের ঘর দলিল করে দেওয়ার নাম করে আমার কাছ থেকে ৪ হাজার টাকা নিয়েছে।
ঋণ বাবদ ১০ থেকে ১৫ টাকা নেওয়া হয়েছে এমন অভিযোগ অস্বীকার করে আশ্রয়নের সভাপতি নুর মোহাম্মদ মেকার ক্ষীণ কন্ঠে বলেন, বিভিন্ন খরচ বাবদ লোন প্রতি ২, ৪, ৫ হাজার টাকা করে দিয়েছে তারা। কর্মকর্তাদের কিছু দিতে হয়েছে কি না? জবাবে তিনি বলেন, চলাচল করতে কিছু দেওয়া হয়েছে। নদীর ওপারে ভিন্ন গ্রামে যারা থাকে তাদের কিস্তির দিন একত্র করতে পারবেন কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটি সম্ভব না।
ঋণদানে অর্থ লেনদেনের বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা মো. আতাউর রহমান কালবেলাকে বলেন, আমি নিজেই দুইবার তদন্ত করে সম্পূর্ণ যাচাই বাছাই করে নিয়ম মেনেই ১২০ জনের মধ্যে ৮৫ জনকে ঋণ দিয়েছি। লেনদেনের কোনো প্রশ্নই আসে না। আর ভাটিকাপাসিয়া আশ্রয়ন-২ সমবায় সমিতিতে দেওয়া ঋণ আড়াই বছরে আদায় করা হয়েছে মাত্র ৭ হাজার ২৮ টাকা এবং সার্ভিসচার্জ ৪৯২ টাকা। এর কারণ কী? জবাবে তিনি বলেন, এটি আমার আমলে না।
এর আগে উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত ছিলেন মো. আনিছুর রহমান। যিনি এখন গাইবান্ধার জেলা সমবায় কর্মকর্তা(ভারপ্রাপ্ত) হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। তিনি জানান, টাকা নেওয়ার বিষযটি আমাকে খোঁজ নিয়ে বলতে হবে। আর নদী গর্ভে বিলীন হওয়া সমিতির নদী ভাঙনের আগে ৩০ মাসে বিতরণকৃত ঋণ ৩৫ লাখ ৬০ হাজার টাকার মধ্যে মাত্র ৭ হাজার ৫২০ টাকা আদায়ের বিষয়ে কোনো সদুত্তর পাওয়া যায়নি।

এনবিনিউজ একাত্তর ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।