ঢাকাTuesday , 5 December 2023
  • অন্যান্য
  1. আন্তর্জাতিক
  2. করোনা আপডেট
  3. খেলাধুলা
  4. জাতীয়
  5. জেলার খবর
  6. দেশজুড়ে
  7. নির্বাচনের হাওয়া
  8. প্রচ্ছদ
  9. প্রচ্ছদ
  10. ফিচার
  11. বিনোদন
  12. রাজনীতি
  13. শিক্ষা
  14. সকল বিভাগ
  15. স্বাস্থ্যর খবর
আজকের সর্বশেষ সবখবর

একজন ‘মানবিক ইউএনও’র বিদায়ে বেদনাবিধুর তারাকান্দাসাবাসি

Link Copied!

ষ্টাফ রিপোর্টারঃ
একজন ‘মানবিক ইউএনও’ হিসেবে পরিচিতি নিয়েই ময়মনসিংহের তারাকান্দা উপজেলা থেকে বিদায় ঘন্টা বেজে উঠল ৩৩ তম ব্যাচের প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিজাবে রহমত এর। তারাকান্দায়  যোগদানের কিছু দিনের মধ্যেই নিজ গুনেই সর্বস্তরের মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছিলেন তিনি। উপজেলাবাসী একজন সজ্জন, কর্মঠ, জনবান্ধব ও দক্ষ অফিসারকে হারানোর বেদনায় আজ বেদনাবিধুর। এরআগে তিনি ময়মনসিংহ  জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে কর্মরত ছিলেন।
জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলির উপর ছিল তার সজাগ দৃষ্টি। মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের যে মূল ধর্ম কাজের মধ্যদিয়ে জনগনের আস্থা অর্জন করা,আর মিজাবে রহমত  তা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। প্রশাসনিক ক্যাডারের সদস্য হিসেবে তার  জন্য গর্ব অনুভব করছেন তারাকান্দাবাসী। উপজেলাবাসী তার সার্বিক সাফল্য কামনা করছেন।
গত ২০২১ সালের ২৬ এপ্রিল এ উপজেলায় যোগদান করেছিলেন ইউএনও মিজাবে রহমত । এর পর থেকে জনতার বন্ধু হিসাবে সততার মাধ্যমে  উপজেলার মানুষকে সেবা করেছেন  তিনি। এ সময়ে তিনি সততা, নিষ্ঠা ও দক্ষতার সাথে জনগণের সেবা দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন এলাকার সর্বস্তরের লোকজন। করোনা মহামারীর মধ্যেও উপজেলার সার্বিক উন্নয়নে ব্যাপক ভূমিকা রেখেছেন। করোনার প্রাদূর্ভাব মোকাবেলায় তিনি অক্লান্ত পরিশ্রমের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন।
 তারাকান্দা উপজেলার সুশীল সমাজের কয়েকজন বলেন, সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী সমূহে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে এবং বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন বা তরুণ শক্তিকে পুনরুজ্জীবিত করতে সক্ষম হয়েছেন তিনি।
উপজেলা অফিসার্স ক্লাবের নেতৃবৃন্দরা বলেন, আমাদের  চাকুরীকালে যতগুলো সাহসী, চৌকস, সৎ, ন্যায়পরায়ন ইউএনও পেয়েছি তাদের মধ্যে তিনি অন্যতম।
উপজেলায় কর্মরত কয়েকজন সাংবাদিকরা বলেন, আমরা  উপজেলায় সাংবাদিকতায় সরকারি প্রোগ্রাম কভারেজ করতে গিয়ে অল্প সময়ে যেটুকু লক্ষ্য করেছি, তা হলো, উনি খুব স্থির ও ধৈর্য্যশীল মানুষ। মানুষের কথা মনোযোগ দিয়ে শুনতেন। বিরক্ত, অবহেলা বা ব্যস্ততা দেখাতেন না কাউকে।
একজন সাংবাদিক বলেন, তিনি জনবান্ধব মানুষ ছিলেন।অল্প সময়ের মধ্যে উপজেলার সকল শ্রেণী পেশার মানুষের মন জয় করে ছিলেন। নিম্ন শ্রেণী থেকে উচ্চ পদস্থ লোক খুব সহজে তার কাছে যেত পারত। কোন ঘটনা ঘটলে তাৎক্ষনিক ভাবে সেখানে ছুটে যেতেন।
প্রাথমিক বিদ্যালয়েের কয়েকজন শিক্ষক  বলেন, কোভিড-১৯ এর সময় ওনার কর্মকাল। আমাদের সাথে একিভূত হয়ে অনলাইন ক্লাসসহ সকলকে সাথে নিয়ে উন্নয়নে তিনি ব্যাপক কাজ করেছেন। একজন মানবিক কর্মকর্তা হিসেবে ওনার জুড়ি মেলা ভার। তাছাড়া তারাকান্দায় শিক্ষার মানোন্নয়নে তিনি বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দৌড়ঝাঁপ চালিয়ে মিড ডে মিল চালু করণ,প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন,মা সমাবেশ,শিক্ষা উপকরণ বিতরণ,ঝড়ে পড়া শিক্ষার্থীদের স্কুলে ফেরানো,সুবজ শিক্ষাঙ্গনের জন্য স্কুলের পরিত্যক্ত জায়গায় বিভিন্ন ফলমুলসহ গাছের চারা রোপনসহ যে কর্মসূচি তিনি করেছেন তা তারাকান্দায় ইতিহাস হয়ে থাকবে।
কয়েকটি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বলেন, করোনা সংকটের সময়ে লকডাউন নিশ্চিত, খাদ্য সরবরাহ, সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতকরণসহ পরিস্থিতি মোকাবেলায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করেছেন তিনি। ঝুকিনিয়ে দিন-রাত কাজ করে গেছেন। তিনি একজন সৃজনশীল ও মানবিক ইউএনও।
উপজেলা পরিষদের পরিচ্ছন্ন ও মনোরম পরিবেশ তারাকান্দা উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্স ভবনকে আকর্ষণীয় করে তুলেছে।  তিনি কোন কল্যাণকর কাজ থেকে পিছু পা হননি। তার বদলীতে তারাকান্দাবাসী একজন সজ্জন, জনবান্ধব ও মানবিক কর্মকর্তাকে হারালো।
উপজেলা বীর মুক্তিযোদ্ধারা  বলেন, মুক্তিযুদ্ধের আদর্শের সন্তান  মানবিক, সৎ ও সাহসী মানুষ মিজাবে রহমত । শহীদ মিনার চত্বরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরাল, উপজেলা পরিষদস্থ শেখ রাসেল ফোয়ারা ও ভাষা সৈনিক শামছুল হক উদ্যান নির্মাণ আগামী প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বলীয়ান করবেন মর্মে তারা জানান।
তিনি সততা ও দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করে গেছেন।
তিনি খুবই ভালো মানুষ। পরিশ্রমী, দক্ষ ও সৎ ব্যক্তি ছিলেন।উনার সততা ও ন্যায়পরায়নতায় আমরা মুগ্ধ হয়েছি। তিনি অত্যন্ত উদার মনের মানুষ।
উপজেলা পরিষদের কয়েকজন কর্মকর্তা  বলেন, টাকার জন্য নয়, তিনি মানুষকে সেবা দেওয়ার জন্য দৌড়াতেন। তার কর্মের কথা তারাকান্দা বাসি আজীবন মনে রাখবে। প্রত্যেকটি মানুষের কথা তিনি মনোযোগ দিয়ে শুনতেন ও সমস্যা সমাধানে আন্তরিকভাবে চেষ্টা করতেন। সারাক্ষণ উপজেলার উন্নয়ন নিয়ে ভাবতেন। তিনি সৎ, উদ্যামী ও কর্মঠ ছিলেন।
স্থানীয় কয়েকজন গণ্যমান্য ব্যক্তির সাথে কথা হলে তারা বলেন, তারাকান্দা  উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিজাবে রহমত এর গুণাবলির মধ্যে আমার যে দিকটা ভালো লেগেছে তা হচ্ছে জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলির উপর ছিল তার সজাগ দৃষ্টি। তার প্রশাসনিক এলাকায় জনস্বার্থ বিরোধী কোন ঘটনা তার নজরে আসলে কালবিলম্ব না করে তাৎক্ষণিক সরেজমিনে গিয়ে জনগণকে সাথে নিয়ে তা দৃঢ়তার সাথে মোকাবেলা করেছে।
তিনি আরও বলেন, করোনাকালে একদিকে অসহায় মানুষের পাশে থেকে নিরপেক্ষভাবে সরকারি সাহায্য বিতরণ করেছে। মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের যে মূল ধর্ম কাজের মধ্যদিয়ে জনগনের আস্থা অর্জন করা আমাদের ধারণা মিজাবে রহমত তা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। প্রশাসনিক ক্যাডারের সদস্য হিসেবে তারা ইউএনও মিজাবে রহমত এর জন্য গর্ব অনুভব করে ইউএনও’র  সার্বিক সাফল্য কামনা করি।

এনবিনিউজ একাত্তর ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।