এইচএসসিতে কঠোর নিরাপত্তা: প্রশ্নফাঁস না হওয়ায় স্বস্তি

মুহাম্মদ নোমান ছিদ্দীকী: প্রশ্ন ফাঁসের আলোচনা-সমালোচনা আর ফাঁস রোধে নেয়া পদক্ষেপের মধ্যে চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমানের প্রথম পরীক্ষা কঠোর নিরাপত্তায় অনুষ্ঠিত হলো। এবার বোর্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী গতকাল সোমবার সকাল সাড়ে নয়টার মধ্যে কেন্দ্রে প্রবেশ করে পরীক্ষার্থীরা। প্রথমবারের মত সৃজনশীল প্রশ্নে পরীক্ষা দেয়া নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন অনেকেই। শিক্ষামন্ত্রী জানিয়েছেন, প্রশ্ন ফাঁস ঠেকাতে সবকিছুই করা হয়েছে। প্রশ্নফাঁস না হওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করে আগামী পরীক্ষাগুলোও নির্বিঘ্ন করতে সবধরনের পদক্ষেপ নেয়ার দাবি জানায় অভিভাবকরা। রাস্তার যানজট সবকিছু মিলিয়ে প্রায় এক থেকে দেড়-ঘণ্টা আগে থেকেই পরীক্ষা কেন্দ্রের বাইরে ভিড় করতে থাকে শিক্ষার্থীরা। তাদের সঙ্গে আসেন অভিভাবকরাও। অভিভাবকরা জানান, আমরা প্রশ্নফাঁসের বিষয়ে সব সময়েই আতঙ্কে থাকি, কখন প্রশ্নফাঁস হয়ে যায়। প্রশ্নফাঁস যদি পুরোপুরিভাবে বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে খুব ভাল হতো। এসময় অভিভাবকরা জানান, আমরা চাই পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস না হোক। সন্তানরা ভাল মানুষ হোক। সোমবার নির্দেশনা অনুযায়ী হাতে গোনা কয়েকজন ছাড়া সাড়ে ৯টার মধ্যেই সব পরীক্ষার্থীরা কেন্দ্রের ভেতরে প্রবেশ করে। প্রবেশের সময় শিক্ষকরা একে একে সবাইকে তল্লাশি করার পর ভেতরে প্রবেশ করতে দেন। প্রশ্ন ফাঁস রোধে এবারে সরকারের নেয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ অনুযায়ী সকাল নয়টা পঁয়ত্রিশ মিনিটে প্রশ্নপত্রের সিলগালা খোলার পর ঠিক ১০ টায় শুরু হয় পরীক্ষা। পরীক্ষা শুরুর পরপর রাজধানীর সিদ্ধেশ্বরী গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ পরিদর্শন করেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। প্রশ্নপত্র ফাঁস ঠেকাতে সম্ভব সবই করা হয়েছে বলে জানান তিনি। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, মানুষের পক্ষে যা করা সম্ভব, সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। আশা করি আপনারা সকলের আমাদের সহযোগিতা করবেন। এছাড়াও যারা প্রশ্নফাঁস করে,তারাও বুঝতে পারবে যে প্রশ্নফাঁস করা সঠিক কাজ নয়। পরে পরীক্ষা দিয়ে কেন্দ্রের বাইরে আসে পরীক্ষার্থীরা। তারা জানান, প্রশ্ন একটু কঠিন ছিল, তবে পরীক্ষা ভাল হয়েছে। প্রথম দিনের পরীক্ষার মত বাকী পরীক্ষাগুলোও নির্বিঘ্নে হবে এমন প্রত্যাশা শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের কণ্ঠে। এজন্য সরকারকে আরো কঠোর হবার দাবি জানান তারা। প্রশ্নফাঁসের প্রতারণায় সারাদেশে গ্রেফতার ৭ঃ প্রশ্নপত্র ফাঁসের কথা বলে প্রতারণা করে অর্থ আত্মসাতের চেষ্টার সঙ্গে জড়িত সাত জনকে গ্রেফতার করছে র‌্যাব। গতকাল সোমবার বিকালে র‌্যাবের মুখপাত্র মুফতি মাহমুদ খান গণমাধ্যমকে একথা জানান। মুফতি মাহমুদ বলেন, কোথাও প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়নি এবার। গ্রেফতারকৃতরা মূলত প্রশ্নপত্র ফাঁসের কথা বলে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছিল। গত সপ্তাহে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। বাংলা প্রথমপত্র পরীক্ষার মধ্য দিয়ে চলতি বছর শুরু হওয়া উচ্চ মাধ্যমিক (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষার প্রথম দিনের পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। এ পরীক্ষায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়ার কোনও খবর বা প্রশ্নপত্র ফাঁস সংক্রান্ত কোনও অভিযোগ পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে ঢাকা শিক্ষাবোর্ড কর্তৃপক্ষ। প্রথম দিন অনুপস্থিত ১৩৭১৮, বহিষ্কার ৯৬ঃ এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার প্রথম দিন সারা দেশে ১৩ হাজার ৭১৮ পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিল; বহিষ্কার হয়েছেন ৭ জন পরিদর্শক ও ৮৯ পরীক্ষার্থী। আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় সাব-কমিটির সভাপতি অধ্যাপক মু. জিয়াউল হক স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে সোমবার এই তথ্য জানানো হয়। আন্তঃশিক্ষা বোর্ড পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক উপ-কমিটির আহ্বায়ক তপন কুমার সরকার জানান, এইচএসসিতে দুই বিষয়ে (সর্বোচ্চ চার পত্র) ফেল করলে পরের বছর শুধু ওইসব বিষয়ে পরীক্ষা দেওয়া যায়। সোমবার এইচএসসিতে বাংলা প্রথমপত্র, সহজ বাংলা প্রথমপত্র, বাংলা ভাষা ও বাংলাদেশের সংস্কৃতি প্রথমপত্র এবং ডিআইসিএসে বাংলা প্রথমপত্রের পরীক্ষা হয়েছে। আর মাদ্রাসা বোর্ডের অধীনে আলিমে কুরআন মাজিদ এবং কারিগরি বোর্ডে এইচএসসি ভোকেশনালে সকালে বাংলা-২ (সৃজনশীল নতুন/পুরাতন সিলেবাস) ও বিকালে বাংলা-১ (সৃজনশীল নতুন/পুরাতন সিলেবাস) পরীক্ষা হয়েছে। এছাড়া কারিগরির ব্যবসায় ব্যবস্থাপনাতে সকালে বাংলা-২ (নতুন সিলেবাস) ও বাংলা-২ (পুরাতন সিলেবাস) এবং বিকালে বাংলা-১ (সৃজনশীল নতুন সিলেবাস) ও বাংলা-১ (সৃজনশীল পুরাতন সিলেবাস) এবং ডিপ্লোমা ইন কমার্সে সকালে হবে বাংলা-২ এবং বিকালে বাংলা-১ (সৃজনশীল) বিষয়ের পরীক্ষা হয়েছে। প্রথম দিন ঢাকা বোর্ডে ২ হাজার ৪৮৯ জন, রাজশাহীতে ১ হাজার ২৫৬ জন, কুমিল্লায় ১ হাজার ১৯ জন, যশোরে ১ হাজার ৬১ জন, চট্টগ্রামে ৯৯৮ জন, সিলেটে ৭০৬ জন, বরিশালে ৬৫১ জন এবং দিনাজপুর বোর্ডে ১ হাজার ৬৩ পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিল। এছাড়া মাদ্রাসা বোর্ডে ২ হাজার ৪৮৬ জন এবং কারিগরি বোর্ডে ১ হাজার ৯৮৯ পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিল বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়। অন্যদিকে নকলের দায়ে কারিগরি বোর্ডে ৩২ জন, মাদ্রাসা বোর্ডে ৪০ জন, ঢাকা বোর্ডে ৭ জন, বরিশালে ৬ জন, দিনাজপুরে ২ জন এবং যশোর ও সিলেট বোর্ডে একজন করে পরীক্ষার্থী বহিষ্কার হয়েছেন। এছাড়া সিলেট বোর্ডে ৪ জন এবং কারিগরি বোর্ডে ৩ জন পরিদর্শককে বহিষ্কার করা হয়েছে। বাংলাদেশের দুই হাজার ৫৪১টি কেন্দ্রে গতকাল সোমবার একযোগে শুরু হয়েছে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা, যাতে অংশ নিচ্ছেন ১৩ লাখ ১১ হাজার ৪৫৭ জন শিক্ষার্থী।
মতামত দিন

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More