আদালতের রায় পাওয়ার পরও রাণীনগরে প্রধান শিক্ষককে দায়িত্ব হস্তান্তর না করার অভিযোগ, নিয়োগ দেয়া হচ্ছে নতুন প্রধান শিক্ষক

 রাণীনগর (নওগাঁ) প্রতিনিধি: নওগাঁর রাণীনগরে আদালতের আদেশে মো: নজরুল
ইসলাম প্রধান শিক্ষক হিসেবে বিদ্যালয়ে যোগদান করলেও দায়িত্ব হস্তান্তর না
করার অভিযোগ উঠেছে ওই স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে।
অপরদিকে মামলার বিষয়টি নিষ্পত্তি না হতেই ওই বিদ্যালয়ে আবার নতুন করে
প্রধান শিক্ষক নিয়োগ দেয়ার প্রক্রিয়া চলছে। ফলে একদিকে যেমন পাঠদান
ব্যাহত হচ্ছে অন্য দিকে বিষয়টি নিয়ে শিক্ষার্থী/অভিভাবকদের মধ্যে চাপা
ক্ষোভ বিরাজ করছে।
আলোচিত এই ঘটনাটি রাণীনগর উপজেলা সদরের রাণীনগর পাইলট মডেল উচ্চ
বিদ্যালয়ের। এঘটনায় প্রধান শিক্ষক মো: নজরুল ইসলাম উপজেলা নির্বাহী
কর্মকর্তা ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস বরাবর লিখিত অভিযোগ দাখিল
করেছেন।জানা গেছে, রাণীনগর উপজেলা সদরের রাণীনগর পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ে
সহকারী শিক্ষক হিসেবে চাকুরী করা কালে ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের
শূন্য পদে প্রধান শিক্ষক নিযোগ বিজ্ঞপ্তি ও নিয়ম অনুসারে পার্শ্ববর্তি
নওগাঁ সদর উপজেলার চকউজির গ্রামের মৃত-আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে মো: নজরুল
ইসলাম গত ১৪ মার্চ ২০০৪ ইং সালে প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। এরপর
প্রধান শিক্ষক মো: নজরুল ইসলামকে একটি প্রভাবশালী মহল ষড়যন্ত্রের
বেড়াজালে ফেলে কাজ করতে না দেয়ায় রাণীনগর সহকারী জজ আদালতে ১৪০/১৫ অ:প্র:
মামলা দায়ের করেন। মামলার রায়ে আদালত গত ১৫ জানুয়ারী ২০১৮ তারিখে শিক্ষক
মো: নজরুল ইসলামকে ২৮ মার্চ ২০০৪ তারিখ থেকে প্রধান শিক্ষক হিসেবে বহাল
আছেন মর্মে আদেশ দেন। এছাড়া গত ২৩ জানুয়ারী ১৮ তারিখে ৫৭ নং স্মারকে
শিক্ষক মো: নজরুল ইসলামের প্রধান শিক্ষক হিসেবে বহালে আইনগত কোন বাধা নেই
মর্মে নওগাঁ সরকারী কৌশুলী অত্র বিদ্যালয়ের সভাপতি বরাবর আইনগত মতামত
প্রদান করেন। আদালতের আদেশ ও সরকারী কৌশুলীর মতামতের উপর ভিত্তি করে ওই
বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি উপজেলার প্রবীণ শিক্ষক গিয়াস উদ্দীন
প্রধান শিক্ষক মো: নজরুল ইসলামকে গত ১২ মার্চ সাত দিনের মধ্যে প্রধান
শিক্ষক হিসেবে দ্বায়িত্বভার গ্রহনের জন্য পত্র প্রেরণ করেন।
পত্রের আলোকে শিক্ষক মো: নজরুল ইসলাম গত ১৪ মার্চ বিদ্যালয়ে যোগদান করেন।
কিন্তু যোগদানের পর থেকে দায়িত্বভার বুঝে না দিয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান
শিক্ষক আব্দুস সোবহান মৃধা প্রধান শিক্ষকের কক্ষে তালা দিয়ে বিভিন্ন ভাবে
টালবাহনা করছেন। ঘটনাটি নিয়ে শিক্ষকদের মধ্যে নীতিবাচক প্রভাব এবং
ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে মানষিক অস্থিরতা বৃদ্ধিসহ বিদ্যালয়ের কার্যক্রম
ব্যহত হচ্ছে। এদিকে যোগদানের সাত দিন অতিবাহিত হলেও ভারপ্রাপ্ত প্রধান
শিক্ষক আব্দুস ছোবহান মৃধা দায়িত্বভার বুঝে না দেয়ায় প্রধান শিক্ষক মো:
নজরুল ইসলাম বৃহস্পতিবার রাণীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও  মাধ্যমিক
শিক্ষা কর্মকর্তা বরাবর দায়িত্বভার গ্রহনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে একটি
লিখিত আবেদন করেছেন।
অপরদিকে এই বিষয়টি সমাধানের লক্ষে শনিবার সকালে বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে
স্থানীয় সংসদ সদস্য বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটি ও ভারপ্রাপ্ত প্রধান
শিক্ষককে নিয়ে একটি সভার আয়োজন করেন। সভায় বিদ্যালয়ের বর্তমান ভারপ্রাপ্ত
প্রধান শিক্ষক মো: নজরুল ইসলামের রায়ের বিরুদ্ধে সানি মামলা করায় ওই
মামলার রায় না হওয়া পর্যন্ত নজরুল ইসলাম বিদ্যালয়ে যোগদান করতে পারবেন না
বলে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। তবে বিদ্যালয়ের এই সমস্যা নিরসনের জন্য নতুন
প্রধান শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হবে বলে জানা গেছে।

এব্যাপারে পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুস
সোবহান মৃধা জানান, নজরুল ইসলামের রায়ের বিরুদ্ধে আমরা একটি আপিল করেছি।
এছাড়া শনিবার বিদ্যালয়ে একটি বৈঠকের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে
সেই আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত নজরুল ইসলাম এই বিদ্যালয়ে যোগদান
করতে পারবেন না।
বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি গিয়াস উদ্দীন জানান, বিষয়টি নিয়ে
মত-বিরোধ দেখা দিয়েছে। এবিষয়ে বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে স্থানীয় সংসদ সদস্যকে
নিয়ে শনিবার একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে নজরুলের রায়ের বিরুদ্ধে করা
আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তিনি এই বিদ্যালয়ে যোগদান করতে পারবেন না
বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আর বিদ্যালয়ে নতুন একজন যোগ্য শিক্ষককে প্রধান
শিক্ষক হিসাবে নিয়োগ দেওয়ার প্রক্রিয়া চলমান। অতিদ্রুত নতুন একজন
শিক্ষককে এই বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক হিসাবে নিয়োগ প্রদান করা হবে। নজরুল
ইসলাম আইনি প্রক্রিয়া শেষ করে আসলে বিধি মোতাবেক আমরা তাকে এই বিদ্যালয়ে
যোগদান করাতে সহায়তা করা হবে বলে এই প্রবীণ শিক্ষক জানান।
রাণীনগর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো: আব্দুল জলিল জানান, প্রধান
শিক্ষক হিসেবে দায়িত্বভার বুঝে নিতে শিক্ষক নজরুল ইসলাম একটি লিখিত আবেদন
করেছেন। বিষয়টি ক্ষতিয়ে দেখা হচ্ছে।

মতামত দিন

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More