ঢাকাMonday , 13 November 2023
  • অন্যান্য
  1. আন্তর্জাতিক
  2. করোনা আপডেট
  3. খেলাধুলা
  4. জাতীয়
  5. জেলার খবর
  6. দেশজুড়ে
  7. নির্বাচনের হাওয়া
  8. প্রচ্ছদ
  9. প্রচ্ছদ
  10. ফিচার
  11. বিনোদন
  12. রাজনীতি
  13. শিক্ষা
  14. সকল বিভাগ
  15. স্বাস্থ্যর খবর
আজকের সর্বশেষ সবখবর

আজ উলিপুর হাতিয়া গন হত্যা দিবস

Link Copied!

স্টাফ রিপোর্টারঃ
১৩ নভেম্বর ২০২৩ ইং হাতিয়া গন হত্যা দিবস।এখানে উত্তারাঞ্চলের মধ্যে সবচেয়ে বেশী হত্যাযঞ্জ সংঘটিত হয়েছে।
১৯৭১ সালে এই দিনে ভোরে পাক বাহিনী উপজেলার হাতিয়া ইউনিয়নের ৫টি গ্রামে হাতিয়া অপারেশন নামে এক পৈচাশিক বর্বতা চালিয়ে আগুন দিয়ে ভষ্মীভূত করে দিয়েছিলো পুরো এলাকা। এরপর ৬৯৭জন নিরহ মানুষকে দাগারকুঠি নামক স্থানে জড়ো করে সারিবদ্ধ ভাবে দাড় করিয়ে পশু পাখির মত গুলি চালিয়ে তাদের হত্যা করে। পাক বাহিনীর অগ্নিসংযোগ ও হত্যাকান্ড থেকে কোলের শিশু পর্যন্ত রক্ষা পায়নি। অনেক শিশুকে পাক সেনারা ধরে আছাড় মেরে অথবা আগুনে নিক্ষেপ করে জঘন্যতম বর্বতার মাধ্যমে তাদেরকেও হত্যা করেছ। সেদিন এ ভাবেই হাতিয়া ইউনিয়নের বাগুয়া,অনন্তপুর,রামখানা,নয়াডারা ও দাগারকুঠি গ্রামসহ পাশাপাশি গ্রামের মানুষকে যাকে যে অবস্থায় পেয়েছে তাকে গুলি চালিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এ অপারেশন শুধু হাতিয়া ইউনিয়নেই নয়, পাশ্ববর্তী বুড়াবুড়ি ইউনিয়নের কলাকাটা,জলাঙ্গারকুঠি,ফকির মোহাম্মদসহ বেশ কয়েকটি গ্রামে একই সাথে হামলা চালানো হয়েছে। সেদিন পাক সেনাদের গুলি খেয়ে মৃত্যুর হাত থেকে বেঁচে গেছেন এমন ব্যক্তির মধ্যে আজো বেঁছে আছেন অনেকে। সে দিনের সেই হত্যাকান্ডের কথা জিজ্ঞাসা করলে আজো তারা হাউমাউ করে কেঁদে ফেলে। গুলি খেয়ে বেঁচে যাওয়া কামাল উদ্দিন আজ বৃদ্ধ বয়সে কালের স্বাক্ষী হয়ে দিনক্ষন অতিবাহিত করছে। হাতিয়া অপারেশনে পাক বাহিনীর গুলিতে এই ৫ গ্রামের প্রায় প্রতিটি পরিবারের কোন না কোন স্বজন নিহত হয়েছেন। সে দিনের পাক বাহিনীর অপারেশনে এতো গুলো লোক দেশের স্বাধীনতার জন্য জীবন দান করলো, সেই সব শহীদের স্মৃতি ধরে রাখার জন্য ১৯৯৭ সালে তৎকানি সংসদ সদস্য মোজাম্মেল হোসেন লালু এর আন্তরিক প্রচেষ্টায় প্রথম দাগারকুঠিতে (যে স্থানে ৬৯৭ জন মানুষকে হত্যা করা হয়েছিল) স্মৃতিস্তম্ব নির্মান করা হয়।

সেই স্মতিস্তম্ভ আজ ব্রহ্মপুত্র নদের গর্ভে বিলিন হয়েছে। এর পরবর্তী সময়ে হাতিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে স্মৃতস্তম্ভ নির্মান করা হলেও সেখান থেকে দৃষ্টি নন্দনের কারনে ২০১১ সালে এই স্মৃতিস্তম্ভটি স্থানান্তরিত করে বর্তমানে বাগুয়া-অনন্তপুর বাজার সংলগ্ন পশ্চিম পাশের্ব মোড়ে নির্মিত হয়েছে। পাক বর্বরতার শিকার ৬৯৭জন শহীদের আত্মা হয়তো আজো আহাজারি করে ব্রহ্মপুত্র নদের উপকুলীয় এলাকার গ্রামগুলোর আকাশে বাতাসে। এই হত্যাকান্ডে স্থানীয় ভাবে যারা পাক সেনাদের সহযোগিতা করেছিলেন তাদের বিরুদ্ধে ইতিপূর্বে যুদ্ধাপরাধী মামলা দায়ের এবং দোষীদের অনেককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

প্রতি বছরের ন্যায় এ বছরও নানা কর্মসুচীর মধ্যে দিয়ে পালিত হচ্ছে এ দিবসটি। উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ও ইউনিয়ন পরিষদ যৌথভাবে এ দিবসটি পালন করেছেন।

এনবিনিউজ একাত্তর ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।